পাকিস্তানের রাজাকারদের সঙ্গে আঁতাত করে, অবৈধ প্রেম করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এই ক্ষমতা বেশি দিন টিকবে না বলে জানিয়েছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান।
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক মামলায় শাজাহান খানসহ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ ৭ জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন তাদের।
গ্রেফতার দেখানো অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।
এ সময় শাজাহান খান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সমালোচনা করেন। কথা বলেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়েও। এদিন তিনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এদিন হাজতখানা থেকে এজলাসে নেওয়ার পথে শাজাহান খান বলেন, ইউনূস ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র। ৮ মাসে প্রমাণ করে দিয়েছে। আজ পাকিস্তানের রাজাকারদের সঙ্গে আঁতাত করে, অবৈধ প্রেম করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এই ক্ষমতা বেশি দিন টিকবে না।
মামলা শুনানি শেষে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে শাজাহান খান বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যায় না। আওয়ামী লীগ ফিনিক্স পাখির মতো আবার জীবন্ত হবে। নির্বাচন করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন সুযোগ পাব করব ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, অবশ্যই প্রস্তুত আমরা। ইনশাআল্লাহ নির্বাচন করব।
জুলাই আন্দোলনে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, সেজন্য যদি জনগণের কাছে জবাব দিতে হয় দেব, অনুশোচনা প্রকাশ করতে হয় করব। সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ অবশ্যই নির্বাচন করবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের দল। নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। আর জনগণ সে সুযোগ দেবে।
এনসিপির বিষয়ে তিনি বলেন, এনসিপি আঁতুড়ঘরে কালাজ্বরে ধুঁকছে। আর জামাতিদের কোলে বসে এখন জামাতিদের শূরা (শরবত) পান করছে।
গ্রেফতারকৃত মামলার মধ্যে আনিসুল হককে তিন মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে তিন মামলায়, আমীর হোসেন আমুকে দুই মামলায়, রাশেদ খান মেননকে দুই মামলায়, হাসানুল হক ইনুকে দুই মামলায়, জুনাইদ পলককে দুই মামলায়, শাজাহান খানকে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সময়ের আলো/এএইচ