স্ত্রীসহ মেজর সাদিক ৫ দিনের রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক

আইন-আদালত

রাজধানী ভাটারা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় মেজর মো. সাদিকুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া

2025-12-29T16:39:36+00:00
2025-12-29T16:39:36+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
আইন-আদালত
স্ত্রীসহ মেজর সাদিক ৫ দিনের রিমান্ডে
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ভাটারা থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় মেজর মো. সাদিকুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া গুলশান থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের আরেক মামলায় তার স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত রিমান্ডের এসব আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর জাফরিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামুন। আদালত রিমান্ড বিষয়ে শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন। শুনানিকালে এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে মেজর সাদিককে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এইচ এম আল আমিন রিমান্ডের আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

মেজর সাদিকের রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সামরিক আদালত থেকে গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত করে মেজর সাদিককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় ঢাকা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেছেন বলে জানা যায়। তিনি এ মামলার জড়িত সন্দেহভাজন আসামি। সেনাবাহিনীতে চাকরি করা অবস্থায় গত ৩ জুলাই এবং ৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী দিনব্যাপী ভাটারার একটি কনভেনশন হলের ভেতর আওয়ামী লীগ, যার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত ও নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একত্রিত হয়ে একটি গোপন সভা অনুষ্ঠিত করে তাদের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি বিষয়ক আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিল। 


এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন কনভেনশন সেন্টার ও আবাসিক ভবনে স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনসহ একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ বা ওয়ার্কশপ করেছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাদিক।

আবেদনে আরও বলা হয়, মেজর সাদিক অপারেশন ঢাকা ব্লকেডের কানেক্টরের ভূমিকায় ছিলেন। এ আসামি ওই সংগঠনের মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সংগ্রহ করে ডাটা এন্ট্রি, বিভিন্ন গোপন কোড তৈরিতে সহায়তা করে। তিনি অন্যান্য আসামিদের গোপন কোড এবং ওই কোডের অনুকূলে ছদ্মনাম প্রদানসহ অনলাইন সিগন্যাল অ্যাপ ও হোয়াটসঅ্যাপ এবং গুগলের মাধ্যমে ওই সংগঠনকে একত্রিত করার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নিযুক্ত ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ও ৮ জুলাই ওই কনভেনশন হলে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩০০-৪০০ নেতাকর্মীকে নিয়ে গোপন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, মেজর (অব.) সাদিক সেখানে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শাহবাগ দখল করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।

অন্যদিকে, সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, তিনি এই কার্যক্রমের অন্যতম অর্থযোগানদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতা। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের সুসংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ঘটনার মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করা, অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা এবং বিদেশে অবস্থানরত ষড়যন্ত্রকারীদের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা এই দুই আসামির রিমান্ড প্রার্থনা করেন।

গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানার এসআই জ্যোতির্ময় মন্ডল সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। অপরদিকে গত ২২ এপ্রিল সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গুলশান থানায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ।

আরআর
  বিষয়:   মেজর সাদিক  রিমান্ড  আদালত  সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিন 


Advertisement
Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: