কুরবানির ঈদের পর দিন থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। রাজধানী ঢাকার কিছু কিছু জায়গায় অল্প লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন গ্রামে ঈদ করতে যাওয়া মানুষ। শহর থেকে গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া অসংখ্য মানুষকে এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার দুপুরে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ঈদের পর দিন থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। ঢাকার মিরপুর, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলে ঈদে বেশি লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। বুধবারও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।
অথচ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান ঘোষণা দিয়েছিলেন- গ্রামে ও শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বৈষম্য হবে না; শহর ও গ্রামে লোডশেডিং সমান হবে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে মিলকারখানা বন্ধ থাকায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়েছে। ঈদের দিন পিক আওয়ার দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৮৭৮ মেগাওয়াট। রাত ৮টা পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৬৩১ মেগাওয়াট। সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো লোডশেডিং ছিল না। এ ছাড়া ঈদের পর দিন থেকে চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এই চাহিদা বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত কখনও দুয়েক ঘণ্টার জন্য ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছিল। এ ছাড়া সব সময়ই চাহিদা কম ছিল। চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিং হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হয়েছে মেইনটেনেন্স ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে।
জানা গেছে, ঈদের লম্বা ছুটিতে বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে মানুষ। অতিরিক্ত গরমে বৃদ্ধ ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজে সংরক্ষিত কুরবানির মাংস নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।
গত মঙ্গলবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে প্রায় আধা ঘণ্টা সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া ঈদুল আজহার ছুটিতে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিং জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে আশুলিয়ার বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে লোডশেডিং বেড়েছে। দিনে ও রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। গত সোমবার রাতে প্রচণ্ড গরমে কোম্পানীগঞ্জের খাগাইল এলাকার এক বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এর প্রতিবাদে ও বিদ্যুতের দাবিতে মঙ্গলবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আশুলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের সব শিল্পকারখানা ও অফিস-আদালত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুৎ সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে আনন্দ থাকার কথা, সেখানে শুধু গরম আর অন্ধকার। ঈদের আনন্দ ম্লান ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ।
কুমিল্লা মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা তাওহীদুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানান, তাদের এলাকায় ঈদের আগে-পরে অব্যাহতভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরমে বৃদ্ধ ও শিশুদের কষ্ট হচ্ছে। গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ সময়ের আলোকে জানান, ঈদের দিন থেকে এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
মিরপুরের বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জানান, ঈদের দিন থেকে ১ থেকে ২ বার করে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি কর্তৃপক্ষ বলছে লোডশেডিং নয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ও পিডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে বিদ্যুতের চাহিদা কম রয়েছে। তারপরও গ্রামাঞ্চলে কিছুটা লোডশেডিং করতে হয়েছে। কারণ গ্রামের চেয়ে রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভালো। গ্রামে কোনো কোনো বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র বা সাবস্টেশন থেকে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়। এ ছাড়া একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়, খুঁটি ভেঙে পড়ে। সেজন্য কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এ জন্য গ্রামে লোডশেডিং বেশি করতে হয়। এ ছাড়া এবারের ঈদের আগে থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাতে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে অন্যান্য বারের তুলনায় এ বছর গ্রামে বেশি বিদ্যুৎ সংকট ছিল।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক মো. আক্তারুজ্জামান লস্কর বলেন, কোনো লোডশেডিং নেই। আমাদের পর্যাপ্ত লোড রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে, আবার গাছের ডালপালা তারের ওপর পড়ে যায়। ফলে যান্ত্রিক এসব ত্রুটি মেরামতে সময় লাগে- এ কারণে লোডশেডিং হয়েছে।
সময়ের আলো/এমএইচ