পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে লাল চাঁদ সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) জানিয়েছে, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পৃথক সময়ে বিক্ষোভ করবেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
কোন এলাকায় কখন বিক্ষোভ
আইইউবি এবং এনএসইউ: বেলা ১১টা ৩০ মিনিট
রামপুরা ব্রিজ: দুপুর ১২টায়
বসুন্ধরা গেট: দুপুর ১২টায়
উত্তরা বিএনএস: দুপুর ১২টায়
আশুলিয়া (খাগান): দুপুর ১২টায়
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট
নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১টায়
উত্তরা ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১টায়
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১টায়
মিরপুর-১০: বিকেল ৪টায়।
এছাড়াও ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট চত্বরে বিকেল ৩টায় এবং সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সন্ধ্যা ৬টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে সোহাগকে কুপিয়ে এবং মাথায় বড় পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নেটিজেনদের মাঝে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগমের দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখ করে ১৯ জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, কালু ওরফে স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী ও আনিসুর রহমান হাওলাদার।
সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সোহাগকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার নিথর দেহ টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল চত্বরের বাইরে এনে শত শত মানুষের সামনে চলে বীভৎস উন্মত্ততা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙাড়ি ও পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দোকানের নাম ছিল ‘সোহানা মেটাল’। বিদ্যুতের তামার ও সাদা তারের ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন তিনি। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিলেন মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু। তারা নিয়মিত চাঁদা দাবি করছিলেন এবং ব্যবসার ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন। এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সময়ের আলো/জেডআই