রাজধানীর পুরান ঢাকায় মো. সোহাগ নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার ঘটনায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান রবিন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া হত্যা মামলায় আসামি মো. টিটন গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (১২ জুলািই) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আসামি টিটন গাজীকে হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্র আইনের মামলায় দুদিনের রিমান্ড শেষে আসামি তারেক রহমান রবিনকে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মনির হোসেন জীবন। এরপর রবিন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্ত কর্মকর্তা।
এরপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াসের আদালতে স্বেচ্ছায় এ জবানবন্দি দেন তিনি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
জানা যায়, আসামি তারেক রহমান রবিন রাজধানীর চকবাজার থানার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
রবিনের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এজলাসে ওঠেন বিচারক।আদালতে প্রথমে হত্যা মামলায় গ্রেফতার টিটন গাজীর সাতদিনের রিমান্ড বিষয়ে শুনানি করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন ও এম কাওসার আহমেদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে এদিন আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী ছিল না।
এ সময় বিচারক আসামি টিটন গাজীকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কিছু কি বলতে চান? তখন তিনি বলেন- জি স্যার, আমার কোনো আইনজীবী নেই। আপনি (বিচারক) যে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছেন, সেখানে আমাকে দেখা যাচ্ছে। আমি কাউকে আঘাত করিনি। আমাকে মোবাইলে ফোন করে ডাকা হয়েছিল। ফোন পেয়ে সেখানে যাই। আমি কাউকে আঘাত করিনি। ভিকটিমকে আঘাত করার জন্য হুকুমও দেইনি। আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি নির্দোষ স্যার। বিচারক শুনানি শেষে আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিএমএম হাজতখানা থেকে টিটন গাজীকে এজলাসে ওঠানোর সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। আমি কিছুই জানি না। আমি নির্দোষ।
জানা যায়, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর প্রকাশ্যে লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পাথর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত।
খবর পাওয়ার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।
/এসটিও