হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. মির্জা গালিব বলেছেন, ‘একটি জাতির উন্নতির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। কেউ বাংলায় কথা বলে, কেউ পাহাড়ি ভাষায়; হিন্দু না মুসলমান— এটা কোনো বিষয় না। নাগরিক ও ছাত্র হিসেবে সকলের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। এই রকম একটি সামাজিক চুক্তিতে আমাদের যেতে হবে। রাজনীতিকে পেশিশক্তির সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে শাখা ইসলামী ছাত্র শিবির কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।
মির্জা গালিব বলেন, রাজনীতির জন্য পেশিশক্তি দিয়ে কাউকে হেনস্তা করা ঠিক নয়। একটি কালেক্টিভ জাতি গঠন করতে হবে— যারা দেশের প্রয়োজনে কাজ করবে, জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হবে। তবেই একটি উন্নত জাতি, দেশ গড়তে এই ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তরুণদের স্কিলড ম্যানপাওয়ারে পরিণত করতে হবে। রাজনৈতিক সচেতন এবং টেকনোলজিক্যাল প্রতিযোগিতায় যুগোপযোগী হতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর একটি অর্জন অন্য একটি অর্জনের পথ খুলে দেয়। কোনো অর্জনের পর অতি উৎসাহী না হয়ে পরবর্তী অর্জনের জন্য নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখি, সেখানে উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী কম। বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ তৈরির কারখানা হওয়া উচিত, কিন্তু এখানে তা হয় না।’
তিনি আরও বলেন, যে রাষ্ট্রের সংবিধান একটি দ্বন্দ্বের উপর প্রতিষ্ঠিত, তা দিয়ে সুষ্ঠু রাজনীতি পাওয়া যায় না। গালাগালিকে গলাগলিতে রূপান্তরের রাজনীতি তুলে ধরতে চায় ছাত্রশিবির। ছাত্র রাজনীতি হবে ভবিষ্যতে এ জাতির নেতৃত্ব প্রদানের। বাংলাদেশ হলো একটি সুন্দর বাগান, যেখানে কোনো মালি নাই। এই তরুণ সমাজ সৎ, দেশপ্রেমিক ও দক্ষ হবে— যারা দেশ পরিচালনা করবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার আমীর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শাহীন ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসাইন সাঈদি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার খরচের বড় অংশ রাষ্ট্র খরচ করে। এই টাকা একজন রিকশাচালক, দিনমজুরের টাকা। তাদের আয়ের একটা অংশ আমাদের পড়ালেখার পেছনে ব্যয় হয়। তাই তাদের যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে। সুশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আমাদের সুশিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে। আমাদের উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে শুরু করেছি। আমরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। ছাত্রশিবির আজকে যেই উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে এরকম কার্যক্রম আয়োজনের আহ্বান জানাই।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা শিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, ছাত্র হল প্রভোস্ট-১ ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান সাদী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও শাখা শিবিরের অন্যান্য নেতৃত্বসহ নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসকে/