বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ফরিদ আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া একই থানা এলাকায় আব্দুর রাজ্জাককে হত্যাচেষ্টা মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ও এসআই নাহিদ হাসান খান তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তদন্ত কর্মকর্তাদের পৃথক আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পলকসহ অন্যান্য আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের মাথায় হেলমেট, হাতে হাতকড়া ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এই সময় পলক উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনদের দেখে মাথা নাড়িয়ে কুশল বিনিময় করেন, তবে অন্য আসামিরা মাথা নিচু করে ছিলেন।
তবে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর পর হেলমেট খুলে দেওয়া হলে পলক তার আইনজীবীর সঙ্গে মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এসময় এক আত্মীয়কে দেখে ইশারায় কুশল জানতে চান এবং উপস্থিত আইনজীবীদের পরিবারের খবর নেন।
এরপর সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন এবং শুনানি শেষে তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে আবারও কঠোর নিরাপত্তায় তাদের সিএমএম হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পলক ও মনিরুলের মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরে ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিছিলে অবস্থান নেন ফরিদ আহমেদ। ঘটনার দিন পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়।
গত বছরের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্যদিকে ৯ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাজধানী রমনা থেকে আটক করা পুলিশের সাবেক উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহকে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানকে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়।
সময়ের আলো/এসটিও