ইয়াবার সাপ্লাই পয়েন্ট সাতকানিয়া

জাহেদুল ইসলাম সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)

খবর

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পরিণত হয়েছে ইয়াবার ট্রানজিট হাবে। ব্যস্ত মহাসড়ক আর অন্ধকার গলিই হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়। গত এক

2025-08-14T09:36:02+00:00
2025-08-14T09:36:02+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
খবর
ইয়াবা সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে টেকনাফ-সাতকানিয়া করিডোর
ইয়াবার সাপ্লাই পয়েন্ট সাতকানিয়া
জাহেদুল ইসলাম সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৩৬ এএম 
সাতকানিয়া পরিণত হয়েছে ইয়াবার ট্রানজিট হাবে। পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছে তিন দফা চালান। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পরিণত হয়েছে ইয়াবার ট্রানজিট হাবে। ব্যস্ত মহাসড়ক আর অন্ধকার গলিই হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়। গত এক সপ্তাহে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছে তিন দফা চালান। উদ্ধার হয়েছে ২ হাজার ৭৪০ পিস ইয়াবা, বিদেশি রিভলভার ও কার্তুজ। আটক হয়েছেন টেকনাফের কুখ্যাত মাদক কারবারিসহ অন্তত চারজন। তবে পুলিশি পরিসংখ্যান শুধু বরফখণ্ডের চূড়ার নিচে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর এক ইয়াবা সাম্রাজ্য, যা নিয়ন্ত্রণ করছে টেকনাফ-সাতকানিয়া করিডোরের শক্তিশালী চক্র। 

ইয়াবা রুটের ভয়াবহতা : পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুটগুলোর একটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। কেঁওচিয়া এলাকার খুনি বটতল ও আশপাশের এলাকা অনেক দিন ধরেই নজরদারির তালিকায় রয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে রাতের অন্ধকার, মহাসড়কের নির্জনতা আর স্থানীয় কিছু সহযোগীর কারণে ইয়াবা সিন্ডিকেটের জন্য নিরাপদ করিডোর তৈরি হয়েছে।

পুলিশের কঠোর অবস্থান : সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, টানা অভিযান চালাচ্ছি। গত এক সপ্তাহে তিনটি চালান ধরেছি। আমরা জানি, এর পেছনে বড় সিন্ডিকেট আছে। তাদেরও ধরা হবে।

সিন্ডিকেটের গোপন মানচিত্র : পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াবা সিন্ডিকেটের কাঠামোটি পাঁচ স্তরে বিভক্ত- ১. টেকনাফ-মিয়ানমার সংযোগকারী নাফ নদ পেরিয়ে ইয়াবা আসে নাফের উল্টো পারে থাকা মিয়ানমারের কারখানা থেকে। এই অংশে থাকে সীমান্ত পারাপারের দালাল ও নৌকার মাঝি। ২. রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রক : ইয়াবার প্রথম স্টোরেজ হয় টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এখানেই ‘মাল’ ভাগ হয় এবং কুরিয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ৩. কুরিয়ার বাহিনী : এরা সাধারণত মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহী বাস কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে চালান আনে। সম্প্রতি ধরা পড়েছেন এই চক্রের মো. জোবায়ের, নুর ছৈয়দ ও আবদুর রহমান। ৪. স্থানীয় সহযোগী চক্র : সাতকানিয়ার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, পরিবহনকর্মী, এমনকি দোকানদার যারা আশ্রয়, লজিস্টিক ও নিরাপদ রুট দেয়। ৫. শহরভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউটর : মালামাল পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম শহর, এমনকি ঢাকায়। এই স্তরে থাকে সবচেয়ে কম ঝুঁকি, কিন্তু সবচেয়ে বেশি লাভ।

ইয়াবার অন্ধকার গেটওয়ে : সম্প্রতি যে জায়গায় দুই দিনে দুইবার ইয়াবা ধরা পড়েছে সেটি কেঁওচিয়ার খুনি বটতল নামে পরিচিত। এখানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে রয়েছে বিকল্প রাস্তা, যা অল্প সময়ের মধ্যে অন্য এলাকায় মিলিয়ে যায়। একজন স্থানীয় দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস থামে। দুই মিনিটের মধ্যে মাল বদল হয়ে যায়। কারও পিছু নেওয়ার সুযোগই থাকে না।

সিন্ডিকেটের কৌশলে যাত্রী ছদ্মবেশ : নারী ও শিশুকে সঙ্গে রেখে ইয়াবা বহন করা হয় যাতে সন্দেহ কম হয়। বিভক্ত চালান : এক গাড়িতে পুরো ‘মাল’ না রেখে একাধিক বাহককে ভাগ করে দেওয়া। ফ্রন্ট ব্যবসা : ফলের থোকা, মাছের বাক্স, এমনকি মুরগির খাঁচার ভেতর চালান লুকানো অবস্থায় রাখা হয়। প্রতিদিন নতুন রুট : কখনো মহাসড়ক, কখনো গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করা হয় মাদক পাচারের জন্য যাতে পুলিশের নজর ফাঁকি দেওয়া যায়।

সাতকানিয়া থানার এক সপ্তাহের ইয়াবা উদ্ধার : গত ৫ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের করইয়ানগর এলাকায় সেনাবাহিনীর টহলদল ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন স্থানীয় বাসিন্দা জানে আলম (৪০)। তার বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় কাঠের বাটযুক্ত একটি পুরোনো বিদেশি রিভলভার, একটি পুরোনো কার্তুজ, একটি কার্তুজের খোসা ও ২৩০ পিস ইয়াবা। এরপর ১১ আগস্ট ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের খুনি বটতলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পুলিশি ব্যারিকেডে থমকে যায় একটি মোটরসাইকেল। সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে দুই তরুণ মো. জোবায়ের (৩০) ও নুর ছৈয়দ (২০)। তল্লাশিতে জোবায়েরের কাছে এক হাজার পিস ও নুর ছৈয়দের কাছে আরও এক হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা। পুলিশের ভাষ্য মতে, তারা দুজনেই টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং একটি বড় সিন্ডিকেটের কুরিয়ার হিসেবে কাজ করেন।

 এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এরা নিজেরা খুচরা ব্যবসায়ী নয় বরং মাদক পরিবহনকারী। এর পেছনে আছে বড় মাথারা। ১২ আগস্ট বেলা ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে একই স্থানে ফের উদ্ধার হয় ৫১০ পিস ইয়াবা। এদিন খুনি বটতল এলাকায় অভিযানে ধরা পড়েন আবদুর রহমান (৪১)। তিনিও টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ৫১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।

আরআর


Loading...
Loading...
খবর- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: