ছাত্র সংসদের দাবিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরণ অনশন করা শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন। উপাচার্য নিজ হাতে তাদেরকে ডাব খাইয়ে অনশন ভাঙান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে অনশন ভাঙেন তারা। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেটে স্থলে আসেন উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী। তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আমরা ছাত্রদের নিয়ে সম্ভাব্য একটি রোড ম্যাপ তৈরি করেছি। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারব। ছাত্র সংসদ নিয়ে সংবিধি পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বৈঠক ডেকেছে ইউজিসি। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নিয়ে কার্যক্রম শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের খসড়া গঠনতন্ত্রটি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদনের জন্য পরীক্ষা ও চূড়ান্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গঠিত কমিটির সভা ২১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ইউজিসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (লিগ্যাল) শেখ আনিসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানান।
গত রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। তাদের অভিযোগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্রসংসদের বিষয়টি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্রসংসদ বাবদ ফি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি উল্লেখ করে ১০ কার্যদিবসের সময় চেয়েছেন উপাচার্য শওকাত আলী। সোমবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক এহতেরামুল হকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রসংসদের বিষয়টি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নেই। তবে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্রসংসদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ছাত্রসংসদের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ একটি ব্যাংক হিসাব খুলে জমা রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সেটা শুধু ছাত্রসংসদের জন্যই খরচ করা যায়।
ছাত্রসংসদের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। কমিটির সদস্যরা চারটি বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি, রাবি, চবি ও জাবি) থেকে গঠনতন্ত্র সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও তিনটি আবাসিক হলের জন্য আলাদা করে ছাত্রসংসদের জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করেছেন। সেটা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
আরআর