বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় সবজি ব্যবসায়ী মো. শাহাবুল ইসলাম শাওন হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া শাকিল আনোয়ার নামে এক চাকরিজীবীকে হত্যা মামলায় সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এরপর শাওন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. খাজা গোলাম কিবরিয়া আসামি আনিসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আর শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম আসামি এনামুরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ আনিসুল হকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ড. এনামুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেন। ঢাকা জেলার কোর্ট পরিদর্শক হারুন অর রশিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শাওন হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. শাহাবুল ইসলাম শাওন ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় ভ্যানগাড়িযোগে তরকারি ব্যবসা করতেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট তিনি এ আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনের সময়ে আশুলিয়া বাইপাইল মোড়ে আরএমএসটি বিল্ডিংয়ের পাশে গেলে আসামিদের ছোড়া গুলিতে ভিকটিম শাওনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই মো. তৌহিদুল মিয়া আশুলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০০/৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শাকিল হত্যা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট বাইপাইল ওভারব্রিজ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনে যোগ দিয়েছিলেন শাকিল আনোয়ার। দুপুর আড়াইটার দিকে ১-১০ নম্বর আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুকুম এবং প্ররোচনায় অন্য আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দিয়ে আন্দোলকারীদের মারধর ও গুলি করেন।
এতে শাকিলের কপালে ও চোখের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মেডিকেল হাসপাতাল নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে ৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
সময়ের আলো/এসটিও