ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের উত্তাপ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে গ্রাম-গঞ্জেও। নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদল্যায়ে (ঢাবি) অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ফোন দিয়ে আবিদ-হামিম মায়েদ পরিষদকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ ও চাপ প্রয়োগ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী চাঁদপুরের সামিয়া আক্তার তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আমাকে ফোন দিয়ে ছাত্রদল প্যানেলে ভোট দিতে বলেছেন। তার উদ্বেগ তার নম্বর কীভাবে জেলা বিএনপির সভাপতি পেল। সামিয়া প্রশ্ন করেন, জেলা বিএনপির সভাপতি কি ডাকসুর ভোট দেওয়ার জন্য কমান্ড করতে পারে? তাছাড়া এ পোস্ট করা নিয়ে হুমকি দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়ন মনিও তার ফেসবুক পোস্টে এমন কথা জানান। ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী এবি জোবায়ের অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল জেলা বিএনপির সেক্রেটারি তাকে ছাত্রদলের প্যানেলে ভোট দিতে বলে। স্থানীয় নেতারা ফোন দিয়ে ছাত্রদলের পক্ষে ভোট চাওয়ার বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছে।
বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও ছাত্রদলের প্যানেলে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা ও আশঙ্কা কাজ করছে। তারা বলছেন, যেভাবে স্থানীয় নেতারা আমাদের বাড়ি গিয়ে আমাদের বাবা মাকে বাধ্য করছেন, এটি খুবই দৃষ্টিকটু। আমরা আমাদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের নারী প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে হুমকি দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের বলা হয়েছে, তোমার মেয়ে কেন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কথা বলে? এসব করতে থাকলে তার সরকারি চাকরি হবে না।’
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথমে একে প্রোপাগাণ্ডা বললেও একাধিক শিক্ষার্থীর পোস্ট সামনে আসা শুরু করলে ছাত্রদলের জিএস পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ফেসবুক পোস্টে দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফোন করে বিব্রত না করতে অনুরোধ করেন। শিক্ষার্থীদের সম্মোধন করে হামিম বলেন ‘প্রিয় ঢাবি শিক্ষার্থীবৃন্দ, অনেকক্ষেত্রে বিরোধীরা নিজেরা কল করে আপনাকে বিব্রত করতে পারে তাই তদন্তপূর্বক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন এই আশা আপনাদের কাছ থেকে আপনাদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি করতে চাই।’
এর আগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ডাকসুর ছাত্রদল প্যানেলের নামে স্লোগানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এবার শিক্ষার্থীদের স্থানীয় নেতা-কর্তৃক ফোন দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সারাদেশে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা এটা সমর্থন করি না, বরং এর তীব্র বিরোধিতা করি। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে এক ধরনের আমেজ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫। নির্বাচনে ৫০৯ জন প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ জন সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩৯ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থীর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে।
জেআ/আরআর