মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা

সমীরণ রায়

শেষ পাতা

শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আকর্ষণ মহাষ্টমীতে ‘কুমারী পূজা’। মঙ্গলবার রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনে এ পূজার আয়োজন করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল

2025-10-01T08:52:10+00:00
2025-10-01T08:52:10+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
শেষ পাতা
মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল
মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা
সমীরণ রায়
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৫২ এএম 
ফাইল ছবি
শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আকর্ষণ মহাষ্টমীতে ‘কুমারী পূজা’। মঙ্গলবার রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনে এ পূজার আয়োজন করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে মহাষ্টমী পূজা শুরু হয়। আর কুমারী পূজা শুরু হয় বেলা ১১টায়, যা দুপুর ১২টায় শেষ হয়। দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে একই আয়োজন ছিল। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। এবার কুমারী পূজায় ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। আজ বুধবার মহানবমী পূজা।

পূজার আয়োজকরা জানান, মহাষ্টমীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কুমারী পূজা। সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। এবার কুমারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সাত বছর বয়সের লাবণ্য চট্টোপাধ্যায়।

শাস্ত্র মতে, কুমারী দেবীর নাম রাখা হয়েছে ‘মালিনী’। কুমারী দেবীর বাবার নাম বিজয় চট্টোপাধ্যায়। তাকে ভোরে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তারপর সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। পরে তাকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে (১৬ উপাদান) দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিক শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।

বেলা ১১টায় ‘কুমারী মায়িকি জয়, দুর্গা মায়িকি জয়’ ধ্বনিতে কুমারী দেবীকে মণ্ডপে আনা হয়। এ সময় দুর্গা প্রতিমার সামনে কুমারী দেবীর বেদি স্থাপন করা হয়। পূজার শুরুতেই মন্ত্র পাঠ ও প্রার্থনা করা হয়। পরে পঞ্চ উপকরণে কুমারী দেবীকে আরাধনা করেন পুরোহিত ও ভক্তরা। পূজা চলাকালে ওই কুমারী ভক্তদের আশীর্বাদ করে। পূজার ফাঁকে ঢাক-ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর ও ঘণ্টা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ। ভক্তরা ঘুরে ঘুরে উলুধ্বনি দেন। এরপর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, দেবী দুর্গাকে সম্মান জানাতেই অষ্টমীতে আয়োজন করা হয় কুমারী পূজার। কুমারী পূজার ১৬টি উপকরণ দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতার সূত্রপাত করা হয়। বলা হয়ে থাকে এর মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল হবে। তিনি বলেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট নিরসন করে অগ্রগামী হতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। জগতের অনেক স্থানে নারীকে সম্মান দেওয়া হয় পত্নীরূপে বা সহকারিণীরূপে। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমময় রূপ তার মাতৃরূপ। তাই মহাষ্টমী তিথিতে আমরা জগতের সব মাতৃজাতিকে উদ্দেশ্য করে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানাই। তার মাধ্যমে আদ্যাশক্তিকে আমাদের প্রণাম নিবেদন করি।

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে এদিন ছিল হাজার অনুরাগীর ঢল। পূজা মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, কাঁসরঘণ্টা, শঙ্খের আওয়াজ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। রামকৃষ্ণ মন্দির ছাড়াও দেশের বিভিন্ন মণ্ডপ-মন্দিরে কুমারী পূজার আয়োজন ছিল। নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে দেবীরূপে মানবীর মঞ্চে অধিষ্ঠিত হন সাত বছর বয়সি রাজশ্রী ভট্টাচার্য। কুমারী বেশে সেই মহামায়াকেই মাতৃজ্ঞানে পূজা করেন শত শত ভক্ত। সকালে রাজশ্রীকে পূজার মণ্ডপে তুলে এনে ষোড়শ উপাচারে পূজা করা হয়। রাজশ্রী ভট্টাচার্য নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এলাকার পাপ্পু ভট্টাচার্য ও স্বর্ণা ভট্টাচার্যের মেয়ে। সে নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

শ্রীরাম কৃষ্ণের কথা মতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার প্রধান উদ্দেশ্য। শাস্ত্রে এক বছর বয়সি কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

মহাষ্টমী পূজায় রামকৃষ্ণ মিশনের পাশাপাশি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, সিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, শাঁখারী বাজার, পানিটোলা মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে সকাল থেকেই দেবী দর্শনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকালে অষ্টমী পূজার পুষ্পাঞ্জলি শুরু হলে ভিড় বাড়তে থাকে। ফুলে-ফলে ভরে যায় মন্দির চত্বর। সন্ধ্যা আরোতিতে ভিড় আরও বাড়ে।

পঞ্জিকানুযায়ী আজ বুধবার মহানবমী পূজা। এদিন মহানবমী আরম্ভ ও মহানবমীর বিহিত পূজা শেষ হবে। অনেকের বিশ্বাস মহানবমীর দিন হচ্ছে দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেওয়ার ক্ষণ। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেব-দেবীকে আহুতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এ দিনই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। পর দিন কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব।

নবমী নিশিথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমীর রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এসব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে শারদ দুর্গোৎসব। এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৫৯টি মণ্ডপ রয়েছে। মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ ও আনসারসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এএডি/


Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: