গরু থেকে মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স

সাইফুল ইসলাম, রংপুর

শেষ পাতা

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পর এবার কাউনিয়ায় দুজন ও মিঠাপুকুর উপজেলায় একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলার তিন উপজেলায়

2025-10-03T09:15:52+00:00
2025-10-03T09:15:52+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
শেষ পাতা
গরু থেকে মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স
সাইফুল ইসলাম, রংপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:১৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পর এবার কাউনিয়ায় দুজন ও মিঠাপুকুর উপজেলায় একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলার তিন উপজেলায় ১১ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত শনাক্ত হলো। এ ছাড়াও পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন দুজন। এতে আতঙ্ক বাড়ছে সবার মাঝে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে আতঙ্কের কিছু নেই। শুধু সময়মতো চিকিৎসা করালেই ভালো হয়ে যাবে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পীরগাছা উপজেলায় আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছিল।

জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই ও সেপ্টেম্বরে রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা গেছেন। সে সময় অ্যানথ্রাক্স রোগে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অর্ধশত ব্যক্তি আক্রান্ত হয়। তবে চিকিৎসকের মতে, ‌‘যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ছিল, তবে মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স নয়।’ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ নড়েচড়ে বসে। পরে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধি দল গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পীরগাছা সদর এবং পারুল ইউনিয়নের অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ নারী-পুরুষের নমুনা সংগ্রহ করে, যার মধ্যে আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

এদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের আমাইপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার একটি গরু অসুস্থ হয়। পরে সেই গরু জবাই করা হলে আশপাশের লোকজন মাংস কাটাকাটি করে। ঘটনার দুই দিন পর স্থানীয় চারজন সোহরাব হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, মনির হোসেন, মজিবর রহমানসহ কয়েকজন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাদের শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হলে, তাদের মধ্যে একজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের আমাইপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার একটি গরুর খামারে প্রথমে একটি গরু অসুস্থ হয়। এতে সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে রংপুর জেলার তিন উপজেলায় ১১ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে মানুষের মাঝে। তা ছাড়া পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা যাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। যার কারণে তারা গরু-ছাগলের মাংস খেতে ভয় পাচ্ছে। শরীরের মধ্যে কোনো ফুসকুড়ি উঠলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। শুধু সময়মতো চিকিৎসা করালেই ভালো হয়ে যাবে। তারপরও আমাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। 

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) এম এ হালিম লাবলু বলেন, ইমাদপুরে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তারা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত অসুস্থ গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস, হাড় ও নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়। তবে আক্রান্তরা যাতে সামাজিকভাবে কোনো হেয় পরিস্থিতির মধ্যে না পড়ে, সে জন্য তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। আমরা এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগকে সব গবাদি পশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য বলা হয়েছে।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু ছাইদ জানান, জেলার পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর ও রংপুর সদরে ১ লাখ ৬৫ হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। টিকাদান কার্যক্রমের পর নতুন করে গবাদিপশুতে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়নি। আমরা পর্যায়ক্রমে জেলার সব উপজেলায় এই টিকা কার্যক্রম চালাচ্ছি। এ ছাড়াও প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে মসজিদ, মন্দির, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা জানান, যাতে করে পীরগাছার মতো মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় আ্যানথ্রাক্স না বাড়ে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগকে সব গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো অসুস্থ গবাদিপশু যেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যাতে কেউ জবাই করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে পীরগাছা উপজেলায় প্রায় ২০০টি গরু অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা যান। উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হন। এরমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞ দল পীরগাছা উপজেলার ৮ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে।




Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: