আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘের ঢাকার আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন গোয়েন লুইস।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। আশা করি, সব দল এই নির্বাচন যুক্ত হবে। আগামী মাসগুলোতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সামনের দিকে যাবে।
বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন, রোহিঙ্গা সমস্যা ও তাদের প্রত্যাবর্তন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন গোয়েন লুইস।
এদিন সকাল ১১টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎ হয়। গোয়েন লুইসের সঙ্গে ঢাকার আবাসিক কার্যালয়ে সিনিয়র হিউম্যান রাইটস অ্যাডভাইজার হুমা খান ছিলেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গোয়েন লুইসকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুবই চ্যালেঞ্জিং, গত সপ্তাহে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথাও বলেন গোয়েন লুইস। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের বিষয়টিও লুইস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
‘সকালে বিএনপির নেতৃবৃন্দে আতিথিয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের এই কুটনীতিক।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট, নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে বাংলাদেশে ডেমোক্রেটিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার ইউএনের যে একটা কমিটমেন্ট এবং ডেমোক্রেটিক অর্ডার আনতে গেলে যে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড চর্চা, একে অপরের প্রতি রিলেশনশিপ… কী ধরনের রিলেশনশিপ থাকা উচিত তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার জন্য আজকে সকলে মিলে কাজ করতে হবে। এই মুহুর্তে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনতে গেলে নির্বাচনের মাধ্যমে সেই কাজটা আমাদেরকে করতে হবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যে নির্বাচনের আলোচনা চলছে… এটাকে কিভাবে সফলভাবে আমরা সমাপ্ত করতে পারি সেটা আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন এবং কক্সবাজারে তাদের সমস্যাদি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের যে কক্সবাজারে অবস্থান, তাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ… যতদিন তাদের প্রত্যাবর্তন করা না যায় ততদিন তাদের বিষয়ে যে জাতিসংঘ তার সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এটাকে আমরা কিভাবে আরও উন্নততর করতে পারি, ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি— তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির অবদানের কথা স্মরণ করে আমির খসরু বলেন, আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি গোয়েনকে.. বিগত দিনে স্বৈরাচার বিরোধী যে আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে সেখানে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তিনি (গোয়েন লুইস) গণতন্ত্রের পক্ষে, মানবাধিকারের পক্ষে তার যে অবদান সেটাকে আমরা স্বীকৃতি দিতে চাই, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। অত্যন্ত কঠিন সময়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গোয়েনের সেই সময়ে যে ভূমিকা ছিল, সেজন্য্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
খসরু আরও বলেন, ওই সময়গুলোতে তার সাহসী ভূমিকা ছিল এবং জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী যে, প্রত্যেকটি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের পক্ষে গোয়েন সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন একটা স্বৈরাচারের আমলে।
তিনি জানান, গোয়েন লুইসের বাংলাদেশে তার মেয়াদ শেষ করেছেন তিনি এখন বাংলাদেশে ছেড়ে অন্য দেশে যাবেন।
এসকে/