যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গভীর রাতে ২ ব্যক্তিকে আটকে রাখার অভিযোগ

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) গভীর রাতে দুজন বহিরাগতকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে।মারুফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি

2025-10-08T21:09:59+00:00
2025-10-08T21:11:30+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গভীর রাতে ২ ব্যক্তিকে আটকে রাখার অভিযোগ
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০৯ পিএম  আপডেট: ০৮.১০.২০২৫ ৯:১১ পিএম
যবিপ্রবি শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন। ছবি : সময়ের আলো
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) গভীর রাতে দুজন বহিরাগতকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে। 

মারুফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি (এনএফটি) বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও যশোর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ও শিক্ষা সেলের সম্পাদক।

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটায় যবিপ্রবির শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন ও তার বন্ধু গাজী দুটি মোটরসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জুয়েল ও জাহিদ নামক দুই বহিরাগতকে প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করান। 

এসময় প্রধান ফটকের আনসার সদস্যকে মারুফ বলেন, এ দুজন (জুয়েল ও জাহিদ) হত্যা মামলার আসামি। তাদেরকে সকালে পুলিশের কাছে দিব, এরা যাতে পালিয়ে না যেতে পারে দেখে রাখবেন। এরপর দুজনকে আনসার সদস্যদের জিম্মায় রেখে মারুফ ও তার বন্ধু বাইক নিয়ে মুন্সী মেহেরুল্লাহ হলে প্রবেশ করে প্রায় দেড় ঘন্টা পর আবার শিক্ষার্থী ছাউনিতে আসে। 

বহিরাগত একজনকে দেখতে না পেয়ে আনসার সদস্যদের গালিগালাজ এবং সাংবাদিক কেন জানল বলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন মারুফ। পরবর্তীতে একটি দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসলে মারুফের বন্ধু গাজী পালিয়ে যায়। গাজী কেন পালিয়ে যায় এ বিষয়ে মারুফকে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান তিনি। 

একপর্যায়ে আটককৃত জাহিদকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়ে আনসার সদস্য ও সাংবাদিককে মারুফ বলেন, এ দুজন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। এদেরকে চুড়ামনকাটি থেকে ধরে নিয়ে আসছি। এদের উপকার করতে চেয়েছিলাম কিন্তু হল বিপরীত। এরপর মারুফ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেও গাজী প্রবেশ করেনি।  


আটককৃত জাহিদ বলেন, আমার সাথে মারুফ ও গাজীর কোনো পরিচয় নেই। তবে জুয়েলের সঙ্গে ওদের পরিচয়। ওর সঙ্গে কিছু আর্থিক দেনাপাওনা থাকতে পারে। জুয়েলের সঙ্গে থাকায় ওরা আমাকে খাবার খাওয়ার কথা বলে এখানে নিয়ে আসছে। 

মাহমুদুল হাসান নামে যবিপ্রবির এক শিক্ষার্থী বলেন, বৈষম্যবিরোধীর নেতা কর্তৃক ও বহিরাগত সহযোগীর মাধ্যমে দুজন অজ্ঞাত লোককে শিক্ষার্থী ছাউনিতে রেখে হলে প্রবেশ নিশ্চয়ই কোনো খারাপ ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে। এত রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ করায় আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। মারুফ ভাইয়ের দ্বারা এসব বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি আমাদেরকে হল ডাকাতি ও ২০২৩ সালে এক চাকরি প্রার্থীকে অপহরণের ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।  

অভিযোগ অস্বীকার করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারুফ হোসেন বলেন, আমি ও আমার বন্ধু গাজী হলে আসি। কোনো আসামিকে ক্যাম্পাসের মধ্যে রাখার সুযোগ নেই। আর জুয়েল ও জাহিদ এ নামে আমি কাউকে চিনিই না। এদেরকে শিক্ষার্থী ছাউনিতে রাখার প্রশ্নই আসেনা। 

গভীর রাতে হলে বহিরাগত প্রবেশের বিষয়ে যবিপ্রবি মুন্সী মেহেরুল্লাহের হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার বলেন, এ বিষয়ে মাত্র জানলাম। হলে বহিরাগত প্রবেশে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

গভীর রাতে শিক্ষার্থী ছাউনিতে দুজন বহিরাগতকে আটকের বিষয়ে যবিপ্রবি প্রক্টর মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়টি তোমার থেকে মাত্র শুনলাম। ভুক্তভোগী বা কোনো শিক্ষার্থী যদি অভিযোগ করে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

সময়ের  আলো/এআর


  বিষয়:   যবিপ্রবি  শিক্ষার্থী 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: