কাফালা পদ্ধতি বাতিল, বাংলাদেশি শ্রমিকদের উচ্ছ্বাস

এম মামুন হোসেন

শেষ পাতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সান্ডা’ এবং ‘কফিলের ছেলে’ শব্দ দুটি ব্যাপক পরিচিত। ফেসবুক রিলস, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে রীতিমতো ঝড় তুলেছে সান্ডা এবং

2025-10-23T03:17:25+00:00
2025-10-23T03:17:25+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
শেষ পাতা
কাফালা পদ্ধতি বাতিল, বাংলাদেশি শ্রমিকদের উচ্ছ্বাস
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১৭ এএম   (ভিজিট : ২৭০)
সংগৃহীত ছবি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সান্ডা’ এবং ‘কফিলের ছেলে’ শব্দ দুটি ব্যাপক পরিচিত। ফেসবুক রিলস, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে রীতিমতো ঝড় তুলেছে সান্ডা এবং কফিল শব্দ দুটি। সাধারণ অর্থে ‘কফিল’ বলতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়োগকর্তাকে বোঝানো হয়। সৌদি আরবে বিদেশি শ্রমিকদের কাজ ও বসবাস নির্ভর করে কফিলের ওপর। কফিলের মর্জিমতো শ্রমিক শোষণের পদ্ধতি কাফেলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত।

অবশেষে কাফালা (পৃষ্ঠপোষকতা) পদ্ধতি বাতিল হয়েছে। তাদের ৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এই পরিবর্তন সৌদি আরবকে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এক মাইলফলক। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের নির্মাণ, তেল শিল্প এবং পরিষেবা খাতে কাজ করা লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মক্কার মসজিদুল হারামে কাজ করেন মোহাম্মদ মুরাদ। তার বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুরে। এক বছর হয় সৌদি আরবে এসেছেন। এর আগে দুবাই ছিলেন। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, কাফালা পদ্ধতি বাতিল হয়েছে। কফিলের অনুমতি ছাড়া কিছুই করা যেত না। বিভিন্ন দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা খুব খুশি। সৌদিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বিদেশি শ্রমিক সরাসরি উপকৃত হবেন। যাদের বেশিরভাগই ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সৌদিতে কাজ করছেন।

নারায়ণগঞ্জের রাকিব আল মর্তুজা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে সৌদিতে আসেন শিক্ষকতা করতে। প্রায় দশ বছর ধরে এখানে আছেন। বর্তমানে সৌদির রিয়াদে কনস্ট্রাকশন ব্যবসা করেন। রাকিব আল মর্তুজা সময়ের আলোকে বলেন, খুব যে পরিবর্তন হয়েছে এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে নতুন এই সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাসীরা এখন থেকে কাজ পরিবর্তন, দেশ ত্যাগ বা ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে আগের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বেন না। এ ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকরা নিজের ইচ্ছানুযায়ী দেশে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি জানান, সরকারি অ্যাপ এবং অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নতুন শ্রমনীতি অনুযায়ী প্রবাসী শ্রমিকরা এখন থেকে নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন, নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বা অন্যত্র কাজের অনুমতি নিতে পারবেন। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শ্রমবাজারে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার লক্ষাধিক প্রবাসী শ্রমিক এই সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ বিদেশি শ্রমিক, যাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং মিসর থেকে আগতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই সংস্কার বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শ্রমিকদের জন্য আনন্দের। বছরে লাখ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তাদের দেশের অর্থনীতিকে সমর্থন করে যাচ্ছে।

কাফালা পদ্ধতি যা সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরবের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগকর্তাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে রেখেছিল। এই ব্যবস্থায় শ্রমিকরা চাকরি বা দেশ ছাড়তে চাইলে নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো উপায় ছিল না, যা প্রায়শই শোষণ, মজুরি অবহেলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার এই পদ্ধতির সমালোচনা করে এসেছে। নতুন মডেলে, শ্রমিক-নিয়োগকর্তার সম্পর্ক চুক্তিভিত্তিক হবে, যেখানে শ্রমিকরা নিজেরাই ভিসা নবায়ন করতে পারবেন এবং চাকরি পরিবর্তনের জন্য শুধু ৬০ দিনের নোটিস দিলেই যথেষ্ট।

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কাফালা বাতিলের ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

সৌদি শ্রমমন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি গণমাধ্যমে বলেন, এই সংস্কার আমাদের অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ এবং ন্যায়ভিত্তিক করে তুলবে। বিদেশি শ্রমিকরা এখন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে কাজ করবেন, শোষিত শ্রমশক্তি নয়।

এফআর


Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: