বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহের মৃত্যুরহস্য নিয়ে গত ২৯ বছর যাবৎ একটার পর একটা জট খুলছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সাথে ক্ষণজন্মা এ অভিনেতার মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। তখন থেকেই তার এই অকালমৃত্যু নিয়ে মামলা তদন্ত লেগেই আছে, কিন্তু সত্যটা সামনে এসেও যেন আসছে না। তার রহস্য উদঘাটনে পিবিআই বলেছিল, তাকে হত্যা করা হয়নি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে ২০২১ সালে আবার সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী পিবিআইয়ের দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা বললেও গত সোমবার (২০ অক্টোবর) ২৯ বছর পর আত্মহত্যাকে হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত। এ মামলায় অভিযুক্ত ১১ আসামিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে রমনা থানা পুলিশ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লন্ডন থেকে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, তিনি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আশার আলো দেখছেন।
তিনি বলেন, খুন আর আত্মহত্যার চিহ্ন কখনো এক হয় না। তার শরীরে এমন কিছু চিহ্ন ছিল যেটা দেখে মনে হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে, যার প্রমাণও এখন খুনিরা নিজেই দিয়ে দিল। সামিরার ঘনিষ্ঠরা যে যুক্ত ছিল সেটার প্রমাণও পাওয়া গেল।
সালমান শাহের মা বলেন, এটা পরিকল্পিত খুন। আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি, এটা আমি ২৯ বছর আগে থেকেই বলে আসছি। আমার ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে আমরা বাসায় গেলে আমাদের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, কিন্তু কেন সে প্রশ্ন আমি আগেও করেছি।
নীলা চৌধুরী বলেন, ২৯ বছর কিছু মানুষ আমাকে খারাপ বলেছে, আমি নাকি আমার ছেলেকে মেরেছি। সেটিও শুনতে হয়েছে আমাকে। লালন-পালন করে বড় করে আমি আমার ছেলেকেই মেরেছি, এ কথাই বলে তারা। এক মাস আগেও অভিনেতা ডন আমাকে হুমকি দিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে যেতে বলেছে। কত বড় ব্যাকআপ থাকলে আমাকে এভাবে হুমকি দিতে পারে, যে ডন একসময় আমার ছেলের পেছনে ঘুরত, সে কিভাবে আমার সাথে এভাবে কথা বলার সাহস দেখায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নীলা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর একটা ভরসার জায়গা তৈরি হলো। মামলার কার্যক্রম এত দ্রুত হয়ে যাবে ভাবিনি। এ জন্য শুকরিয়া। অনুভূতি আর কী বলব। আমার সব শরীর–মন খালি খালি মনে হচ্ছে। ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সালমান শাহ হত্যা মামলায় ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য ১০ আসামি হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, নায়কের সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
/ইউএমএইচ