ঢালিউডের ইতিহাসে প্রথম সুপারস্টার সালমান শাহ। বাংলা সিনেমায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল তার হাত ধরেই। ক্ষণজন্মা এই অভিনেতা রহস্যজনক মৃত্যুর এত বছর পরও বেঁচে আছেন দর্শকের হৃদয়ে। তিনি কিছু সিনেমার পুরো কাজ শেষ করতে পারেননি। আবার কিছু সিনেমার শুটিং শেষ হলেও ডাবিং করতে পারেননি। তার এসব সিনেমায় কণ্ঠ দেন খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন।
সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তিনি। ডনের কণ্ঠে মুক্তি পাওয়া সালমান অভিনীত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।
ডনে বলেন, বন্ধুত্ব হলো এমন একটা জিনিস, মিশতে মিশতে আত্মার সঙ্গে একটা কানেকশন হয়ে যায়। এভাবে চলতে চলতে বন্ধুত্বের অনেক কিছু একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে চলে আসে। তেমনই সালমানেরও অনেক কিছুই আমার মধ্যে চলে আসে। আমি সালমানের ভয়েস নকল করে কথা বলতে পারতাম।
ডাবিং করা বিষয়ে ডন বলেন, শিবলী ভাই ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে ডাবিংয়ের জন্য অনেককেই এনেছিলেন, কারোটাই মনমতো হচ্ছিল না, হয়তো মোটা গলা হয়ে যাচ্ছিল না হলে চিকন গলা হয়ে যাচ্ছিল। কিংবা মিলছিলো না। তিন-চার দিন এমন করার পর রিজেক্ট করে দিলেন। এরপর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শিবলী ভাইকে বললেন, ভাই আপনি ডন ভাইকে ট্রাই করতে পারেন। সালমানের ভয়েসের সঙ্গে অনেক মিল।
নির্মাতার অনুরোধেই পরে ডাবিং করেন বলে জানান ডন। তিনি বলেন, পরে আমি শিবলী ভাইয়ের অনুরোধে ডাবিং করি। যদিও আমি করতে চাইনি। পরে চিন্তা করলাম, করি, এটা করে দিই। ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে পুরোটাই করলাম।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আজকের দিনে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় সালমান শাহকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ২৯ বছর পরও তার মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থামেনি; তদন্ত এবং আইনি লড়াই এখনো চলছে। সালমান শাহর হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি তারই বন্ধু খলনায়ক ডন। প্রধান আসামি তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য ৯ আসামিরা হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।
সময়ের আলো/জেডআই