ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান, হামলা ও হয়রানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান তারা।
৫ দফা দাবিগুলো হলো-
১. সন্ত্রাস ও হামলার তদন্ত ও বিচার
ভাসমান দোকানদার, রিকশাচালক ও শিক্ষার্থী আবির হাসানের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটি জানায়, ‘৫ আগস্টের পর থেকে ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মব ভায়োলেন্স বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া যাবে না।’ পাশাপাশি, ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ ও বাজেয়াপ্ত মালামাল ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা স্পষ্ট করে জানায়- ‘দোষী যদি ডাকসু সদস্যও হয়, তবুও তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
২. ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকা
উচ্ছেদ অভিযানের আগে ভ্রাম্যমাণ দোকানদার ও উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই সংকট পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সামগ্রিক ফল।’ তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, উচ্ছেদের পর আবার নতুন দোকান বসানো রোধ এবং ক্যাম্পাসে বিদ্যমান হোটেল ব্যবসার অনুমোদন তদন্তের দাবি জানানো হয়।
৩. মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি তদন্ত
সংগঠনটি অভিযোগ করে, শাহবাগ, নিউমার্কেট ও লালবাগ থানার নাকের ডগায় মাদকের ব্যবসা চলছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকায় এটি প্রশাসনিক ছত্রছায়াতেই পরিচালিত হয়। তাই মাদক সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
৪. ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চার্টার’ প্রণয়ন
শিক্ষার্থীবান্ধব, নিরাপদ ও শিক্ষায়তনিক পরিবেশ নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসু ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নিয়ে একটি স্থায়ী নীতিমালা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
৫. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা
সংগঠনটি অভিযোগ করে, কিছু ডাকসু প্রতিনিধি বামপন্থী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও অনলাইন আক্রমণ চালাচ্ছে। এসব বন্ধ ও বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের ফোন চেক করা, বিরোধীমত দমনসহ অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা আরও দাবি করে, প্রমাণ ছাড়া কাউকে ‘মাদকসেবী’ হিসেবে চিহ্নিত করা বন্ধ করতে হবে।
শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট জানায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাকসু সদস্যদের মিথ্যাচার ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে প্রত্যাখ্যান করবে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস নয়, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশই এখন সময়ের দাবি।
এএডি/