ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সচিবালয় অভিমুখে ‘ভুখা মিছিলে’ থাকা শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে পুলিশ।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। বেলা বেলা সোয়া দুইটার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানাওে শিক্ষকরা সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ভুখামিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে রওনা দেন। একটু সামনে এগোতেই তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। সোয়া দুইটার দিকে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের জলকামান ও সাউন্ডে গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা শুরু করে। পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেন।
পুলিশ জানায়, প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা ভুখামিছিল করছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থেকে সচিবালয়ের দিকে রওনা দেন তারা। এ সময় পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে তারা সেটি না মেনে জোর করেই সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। ব্যারিকেড ভাঙার সময় তাদের ওপর জল কামান নিক্ষেপ করা হয়। পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তবে পুলিশের লাঠিপেটায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষক আহত হন বলেও অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
গুরুতর আহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন- নজরুল ইসলাম (৫৫), ওসমান গনে (৩৫), আব্দুল জলিল (৪৫), মাসুদ আলম (৬০), আহমদ আলী (৪৫) সহ অনেকে। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, আহত প্রায় অর্ধশত শিক্ষককে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত শিক্ষকরা জানান, তারা ১৭ দিন ধরে জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন।
এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা ১৩ অক্টোবর থেকে অবস্থানে আছি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে আমরা শান্তিপূর্ণ ভুখা মিছিল করছিলাম। সচিবালয়ের পঞ্চম গ্রেডের সামনে অবস্থান নিয়ে আমরা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে দাবিদাওয়া জানাচ্ছিলাম।
এসময় বিগত সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী-পেটোয়া পুলিশ বাহিনী আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে আমাদের ৩০-৩৫ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, মেডিকেলে আমাদের শিক্ষকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আমরা দ্রুত তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, পুলিশ শুধু সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।
ধাক্কাধাক্কিতে পুলিশের দুই-চারজন আহত হয়েছেন কাউকে গ্রেফতার না করার তথ্য দিয়ে ওসি বলেন, তাদের (আন্দোলনকারী শিক্ষকরা) অনেকেই চলে গেছেন, কিছু আছেন।
সব ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ ৫ দাবিতে গত ১৩ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা।
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারির জাতীয়করণের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রেরিত ১ হাজার ৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে। অনুদানবিহীন স্বীকৃত ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর এমপিও আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি করতে হবে। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য আলাদা অধিদফতর স্থাপন করতে হবে।
সময়ের আলো/জেডআই