হিমালয়ের অন্যতম প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন ও আইকনিক শিখর আমা দাবলাম (৬,৮১২ মিটার) সফলভাবে আরোহন করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী আহসানুজ্জামান তৌকির। রোপ ফোর আউটডোর এডুকেশন–এর প্রশিক্ষণে বেড়ে ওঠা তৌকির ৪ নভেম্বর স্থানীয় সময় ১২:৫৫ এ শীর্ষ স্পর্শ করেন।
অভিযানে তৌকিরের সাথে ছিলেন রোপ ফোর–এর আরেক তরুণ পর্বতারোহী আবরারুল আমিন অর্ণব। অর্ণব মাশরুম রিজ পর্যন্ত সতর্ক ও দক্ষতার সাথে আরোহণ করেন। তবে আবহাওয়া, উচ্চতা, শক্তি–সমতা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে, দীর্ঘমেয়াদী পর্বতারোহণের দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার জানিয়ে ফিরে আসেন।
রোপ ফোর জানায়, একজন পর্বতারোহী হিসেবে অর্ণবের এই সিদ্ধান্ত পরিপক্কতার প্রতিফলন। পাহাড়ে সাফল্য কেবল চূড়ায় পৌঁছানোর মাধ্যমেই পরিমাপ করা হয় না, বরং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই প্রকৃত পর্বতারোহীর শক্তি ও মূল্যবোধ।
রোপ ফোর–এর প্রতিষ্ঠাতা ও অভিযান পরিচালক মো. মহিউদ্দিন মাহি বলেন, তৌকিরের সাফল্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ, অধ্যবসায় এবং মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন। আর অর্ণবের সিদ্ধান্ত দেখিয়েছে, রোপ ফোর কেবল দক্ষ পর্বতারোহী তৈরি করে না, দায়িত্ববান ও মূল্যবোধসম্পন্ন পর্বতারোহী গড়ে তোলে। আমরা দুজনের ওপরই সমানভাবে গর্বিত।
বিশ্বপরিচিত হিমালয়ের ম্যাটারহর্ন নামে পরিচিত আমা দাবলাম তার খাড়া রিজ, বরফঢাকা দেয়াল এবং দীর্ঘ প্রযুক্তিগত রুটের জন্য পর্বতারোহণ জগতে বিশেষ মর্যাদা রাখে। এই শিখর জয় একজন পর্বতারোহীর মনোবল, ধৈর্য ও টেকনিক্যাল দক্ষতার স্পষ্ট প্রমাণ।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রোপ ফোর বাংলাদেশের প্রথম সংগঠিত আউটডোর প্রশিক্ষণ ও মাউন্টেনিয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। রোপ ফোর নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত কাজ গড়ে তোলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে আউটডোর শিক্ষা ও পর্বতারোহণ সংস্কৃতি বিস্তারে কাজ করছে। ধূমপান সহ মাদকের বিরুদ্ধে সংস্থাটি শূন্য-সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে।
/ইউএমএইচ