নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিদেশ থেকে আনা ভোটের কালি ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে। নির্বাচনের পূর্বে প্রায় সব মৌলিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেওয়া শুরু করলে ভোটের পরিবেশ আরও সুষ্ঠু হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত সরকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য। তাই নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক হতে হবে।
ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ সব মৌলিক প্রস্তুতি নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচন তফশিল ঘোষণার আগে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
ইসি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন। গত দুই মাসে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে। এর আগে, ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটাররা দাবি-আপত্তি জানাতে পারবেন। দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত হয়েছে। ভোটকক্ষে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি, মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটিং সুবিধা পাবেন।
/ইউএমএইচ