অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে বের হতে চাই। আমরা বাংলাদেশেরও সেরা, আমরা বিশ্বেরও সেরা। কাজেই বিশ্বের সেরা মঞ্চে আমাদেরকে নিয়ে আসতে হবে, সেটা যেন আমরা করতে পারি।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা বহু দীর্ঘপথ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা দেশের জন্য সেরা তো হবেই, আন্তর্জাতিকভাবেও সেরা হবে। এটির ব্যবস্থাও করতে হবে। শুধু দেশে সেরা হলো, এখানেই থেমে থাকলে হবে না। বিশ্বেও সেরা হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে নাটকের প্রতিযোগিতা, গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন ডিজাইন, খাবার তৈরি- এমন নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে যার যার প্রতিভা সে যেন বের করে আনার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, আমি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই- এটা রচনা প্রতিযোগিতা হতে পারে। উদ্ভাবনী বিষয় হতে পারে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা হতে পারে। এই বয়সে কে কী প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে এবং সেটা দিয়ে নতুন একটা চমক দিচ্ছে, সেই প্রযুক্তিকে বুঝতে পারছে এবং প্রয়োগ করছে- তার জন্যও প্রতিযোগিতা হতে পারে।
তখন স্কুলে বিভিন্ন জায়গায় প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আসবে। আমরা সব দিক থেকে আনতে চাই, শুধু একদিকে সীমাবদ্ধ না রেখে। এর মধ্যে খেলাধুলাকেও আনব না কেন? এই বয়সের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার একটি সিরিজ চলুক। এই খেলাধুলা থেকে সেরা হচ্ছে কে, কে উদ্যোক্তা হতে পারে- নতুন কোনো ব্যবসা, সামাজিক ব্যবসা বা অন্য যেকোনো ব্যবসার প্রতিযোগিতা হতে পারে।
তিনি বলেন, মেয়ে-ছেলেদের জন্য হতে পারে ফ্যাশন ডিজাইন প্রতিযোগিতা। আমি ফ্যাশন পছন্দ করি, এটা করেও প্রতিযোগিতা হতে পারে। খাবার তৈরির প্রতিযোগিতা হোক- ছেলেরা হোক, মেয়েরা হোক, যে যেমন পারে। বহু রকমের বিষয় আছে। এরাও উপভোগ করবে। আমি ভালো গায়ক না হতে পারি, কিন্তু ভালো বিজ্ঞানী হতে পারি। ভালো ব্যবসায়ী হতে পারি। আমার মধ্যে যা আছে, আমি তার খোঁজ পাই। না পেলে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও করি। আমরা সেই খোঁজ পাওয়ার চেষ্টাটা সামনে নিয়ে আসাই আমাদের কাজ।
পরে অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছাড়াও সিনিয়র সচিবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, প্রতিযোগিতার দুই বিভাগের দুই বিজয়ীর হাতে তিন লাখ টাকার চেক ও ট্রফি তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেইসঙ্গে অভিনন্দন জানান সব অংশগ্রহণকারীকে।
সময়ের আলো/এআর