ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও তার বোন শাহানা হানিফ এবং একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৫৪ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং অভিযোগে মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, শাহানা হানিফ ও সাঈদ খোকন ‘সাঈদ খোকন প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে লেয়ারিং প্রক্রিয়ায় ৫৪ কোটি ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৪ টাকা ছদ্মবৃত্ত করেছেন। এ লেনদেন সিটি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের মোট সাতটি হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ছদ্মবৃত্ত লেনদেন বলতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থকে বৈধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকার লেনদেন করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়ায় অবৈধ অর্থকে ‘লেয়ারিং’ নামক একটি পদ্ধতির মাধ্যমে বারবার লেনদেন করে আসল উৎস থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, যাতে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়। এটি সাধারণত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের একটি অংশ।
দুদকের ভাষ্য, ব্যাংক হিসাব খোলার সময় শাহানা হানিফ নিজের পেশা, আয় ও পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার ভাই সাঈদ খোকন সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তার ম্যানেজার মো. রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগসাজশে এ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
দুদক জানায়, সিটি ব্যাংক পিএলসির বনানী লেকভিউ শাখা, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখায় শাহানা হানিফ ও সাঈদ খোকন প্রপার্টিজ লিমিটেডের নামে একাধিক সঞ্চয়ী, এসএনডি ও এফডিআর হিসাব খোলা হয়। এসব হিসাবের মাধ্যমে বারবার অর্থ স্থানান্তর করে মানি লন্ডারিং হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাঈদ খোকন, শাহানা হানিফ ও সাঈদ খোকন প্রপার্টিজের ম্যানেজার মো. রাজু আহমেদ দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধ করেছেন।
সময়ের আলো/এনএ