ফিলিপাইনে বিনোদন জগতের আরেকটি শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে। ২৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় মডেল এবং অভিনেত্রী জিনা লিমা গত ১৬ নভেম্বর কুইজন সিটির একটি কন্ডোমিনিয়াম থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। তার মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন এবং রহস্য ঘিরে তদন্ত চলছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম এবিএস-সিবিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- তার সাবেক প্রেমিক প্রথম লক্ষ্য করেন, জিনা শ্বাস নিচ্ছেন না। তিনি দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- জিনার মৃত্যু হার্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে হতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হবে এবং তদন্ত করা হবে। যাতে কোনো সন্দেহজনক ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায় কি না। কুইজন সিটি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি কোনো অপরাধের আলামত পাওয়া যায়। তবে সেটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে, আর কিছু না পেলে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে স্বীকৃত হবে।
এছাড়াও, রহস্যজনক এক দাগের সন্ধান পাওয়া গেছে- জিনার সাবেক প্রেমিকের গালে একটি আঁচড়ের দাগ দেখা গেছে, যা তিনি দাবি করেছেন, জিনার বন্ধুদের কারণে হতে পারে। তবে এই বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেমিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং তার আইনজীবী সেই ভিডিও ব্যবহার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চান।
জিনার পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে মিন্দানাও দ্বীপ থেকে কুইজন সিটিতে পৌঁছেছেন, তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তার সাবেক প্রেমিকের বাবা জানিয়েছেন, তারা এমন কোনো জটিলতার বিষয় জানতেন না।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তাদের কন্ডোমিনিয়াম ইউনিট পরিদর্শন করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে মৃত্যুর পেছনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মেজর জেনিফার গ্যানাবান জানান, যখন প্রেমিক জিনার দিকে তাকান, তখনই বোঝা যায় যে, তিনি আর বেঁচে নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধ বা আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সন্দেহের কারণে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে, এবং তার রিপোর্ট সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জিনা লিমা ছিলেন একজন ফ্রিল্যান্স মডেল এবং অভিনেত্রী। ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ অনুযায়ী, তিনি ‘মাই ফেয়ারি টেইল লাভ স্টোরি’ সিনেমায় তার অভিনয়ের জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হন।
এএডি/