গত শুক্রবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই গতকাল রাজধানী এবং আশুলিয়ার বাইপালে ভূমিকম্প হয়েছে। মাত্রা যাই হোক না কেন, ভূমিকম্প নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। তবে গতকালের এই কম্পনটি শুক্রবারের নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত ভূমিকম্পের ‘আফটারশক’ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।
তাদের তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শক্তিশালী মূল কম্পনের পর আফটারশক স্বাভাবিক ঘটনা।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরবর্তী কয়েক দিন ছোট বড় আফটারশক হতে পারে। বড় কম্পনের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে ওেয়া যায় না। পরপর ভূমিকম্পকে বিপদ সংকেত হিসেবে দেখেছেন ভূতত্ত্ববিদরা। তারা বলছেন, সাতটি প্লেট ও অসংখ্য ছোট ছোট সাব প্লেট দিয়ে তৈরি পৃথিবীর ভূখণ্ড। এগুলো নরম পদার্থের ওপর ভাসছে। যখন এসব প্লেট সরে যায়, নড়াচড়া করে বা একটি অন্যটিকে ধাক্কা দেয়, সে সময় ইলাস্টিক এনার্জি শক্তি সঞ্চিত হতে শুরু হয়। বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিকভাবে তিনটি বড় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত যেগুলোর চ্যূতি দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সঞ্চিত শক্তি যখন শিলার ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যায়, তখন সেই শক্তি বিদ্যমান কিংবা নতুন ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসে। তখন ভূপৃষ্ঠে কম্পন তৈরি হয়। বাংলােেশ ইন্ডিয়ান-বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে এমন শতবর্ষের শক্তি জমা হয়েছে। যে কারণে দেশে ৮ থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ূন আখতার। তিনি মনে করেন, পূর্বে অবস্থিত বার্মা প্লেট ও পশ্চিমে ভারতীয় সংযোগস্থলের ওপরের ভাগটি র্আৎ সুনামগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে পূর্বে মনিপুর ও মিজোরাম পর্যন্ত অঞ্চলটি লকড হয়ে আছে। যা এখন ধাবিত হতে শুরু করেছে। ভারতীয় প্লেট পূর্বদিকে ও বার্মা প্লেট পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে কারণে বার্মা প্লেটের নিচে ভারতীয় প্লেট তলিয়ে যাচ্ছে। এই জোনে ৮ দশমিক থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তি সঞ্চিত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির বলেছেন, দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি জোনের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সে দিক থেকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলে ঝুঁকি সর্বোচ্চ। এ ছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলাও ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর কিছু অংশ, পুরো কিশোরগঞ্জ, বি.বাড়িয়া এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন অংশও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। মধ্য অঞ্চলের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালী।
বিশেষজ্ঞরে মতে, ভবন নির্মাণে দুর্বল কাঠামো, অতিরিক্ত জনঘনত্বও দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি ঢাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
আরআর