তিন দফা দাবি আদায়ে এবার ‘লাগাতার’ কর্মবিরতির পালন করছেন দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। প্রয়োজনে বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা। আর লাগাতার কর্মবিরতি পালন করায় বার্ষিক পরীক্ষা ঘিরে সংশয় দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পাঁচজন আহ্বায়কের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সই করা আহ্বায়করা হলেন, মো. আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, খাইরুন নাহার লিপি, মু. মাহবুবুর রহমান, মো. আনোয়ার উল্যাহ।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘আমাদের একজন সহকর্মী মারা গেছেন এবং অনেকেই পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন।’
মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আর ক্লাসে যাব না, এমনকি কোনও পরীক্ষায় অংশ নেব না।’
লিপি জানান, শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে মাঠে খেলাধুলা করছে। সারাদেশের শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- পে-স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সমমর্যাদা নিশ্চিত করা।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর শিক্ষকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। তার আগের দিন রাহধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনায় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর চারটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
দুদিন পর অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আশ্বাস পেয়ে শিক্ষকরা কর্মবিরতি কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না করে শিক্ষকরা কেউ কাজে যোগ দেবেন না। আমরা মনে করি, এ আন্দোলন প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদার লড়াই। আমরা চাই, সরকার গত ১২ নভেম্বর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হোক।’
সময়ের আলো/এনএ