প্রকাশ: রোববার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৩১ এএম আপডেট: ৩০.১১.২০২৫ ২:৩২ এএম
পারসিভারেন্স রোভারের এই সেলফিটি তোলা হয়েছে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই। ছবি : নাসামঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল যে পৃথিবীর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলেন। এতদিন ধারণা ছিল, সেখানে পৃথিবীর মতো আকাশে মেঘের আনাগোনা নেই, বৃষ্টি ঝরে না কিংবা বিদ্যুৎও চমকায় না। তবে সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার পারসিভারেন্সের দাবি, মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে সক্রিয় বৈদ্যুতিক চার্জের (বিদ্যুতের) প্রমাণ পেয়েছে তারা। রোভারটিই এই বৈদ্যুতিক ঝলক শনাক্ত করেছে। একজন বিজ্ঞানী একে উল্লেখ করেছেন ‘মিনি-লাইটিং’ বা ‘ছোট আকারের বজ্রপাত’ হিসেবে।
মঙ্গলের পৃষ্ঠে ‘ডাস্ট ডেভিল’ নামে পরিচিত ঘূর্ণিঝড় বা ধূলিঝড় প্রায় নিয়মিত ঘটনা। গবেষকরা মনে করছেন, এই ধূলিঝড়ের সঙ্গেই বিদ্যুতের যোগসূত্র আছে। ২০২১ সাল থেকে রোভার পারসিভারেন্স মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের জেজেরো ক্রেটার নামের এক অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। রোভারের বিশেষ সেন্সর ‘সুপারক্যাম’ সেই বৈদ্যুতিক ঝলক শনাক্ত করেছে। যন্ত্রটি মূলত অডিও বা শব্দ এবং তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ রেকর্ডের সময় এই বিদ্যুতের অস্তিত্ব টের পায়। পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল অনেক বেশি পাতলা। এর মধ্যে বিদ্যুতের ঝলক দেখে গবেষকরা এই প্রথমবার এমন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করলেন।
এ গবেষণার প্রধান ও ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড প্ল্যানেটোলজির গ্রহ বিজ্ঞানী ব্যাপটিস্ট চিডে বলেন, ‘আমাদের জন্য বিদ্যুতের এই ক্ষুদ্র ঝলক বিরাট এক আবিষ্কার। এটি মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন, জলবায়ু এবং সেখানে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোবট বা মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, এই বৈদ্যুতিক ঝলক বর্তমানে মঙ্গলগ্রহে থাকা রোবটটির যন্ত্রপাতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে নভোচারীরা যখন সেখানে অনুসন্ধানে যাবে, তাদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। গবেষকরা রোভারের মাইক্রোফোনে নেওয়া ২৮ ঘণ্টার অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মোট ৫৫টি বৈদ্যুতিক ঝলক শনাক্ত করেন।
বিজ্ঞানীরা এটিকে প্রচলিত অর্থে বজ্রপাতের সঙ্গে তুলনা করছেন না। মেরিল্যান্ডের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী এবং এ গবেষণার সহলেখক রালফ লরেঞ্জ বলেন, ‘প্রচলিত অর্থে বজ্রপাত বলতে যা বোঝায়, আমরা সেটি দেখিনি। এটি কয়েক মিলিমিটার লম্বা, খুব ছোট আকারের স্ফুলিঙ্গ বা আলোর ঝলকানি ছিল। শোনার সময় এটিকে স্পার্ক বা চাবুকের আঘাতের মতো মনে হচ্ছিল।’ উল্লেখ্য, সৌরজগতের অন্য দুই সদস্য- বৃহস্পতি ও শনিতে এরই মধ্যে বিদ্যুতের ঝলক দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করা হচ্ছিল, মঙ্গলগ্রহেও এমনটা হতে পারে। ২০২০ সালের ৩০ জুলাই নাসা পারসিভারেন্স রোভারটি মঙ্গলের উদ্দেশে পাঠায়। ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে অবতরণ করে তথ্য পাঠানো শুরু করে।
সময়ের আলো/এসকে/