জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে গেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৯৯ জন সদস্যের একটি কন্টিনজেন্ট। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে নৌসদস্যের দলটি। এ কন্টিনজেন্ট ‘ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট-১১’-তে অংশ নেবে এবং ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট-১০’-এর প্রতিস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়াও আগামী ১৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় গ্রুপে আরও ৩৯ জন নৌসদস্য বর্ণিত শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেবেন। গতকাল অন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত রয়েছে। সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান, নৌপথের দস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়াও বার্জে কর্মরত বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের প্রয়োজনীয় রসদসামগ্রী দুর্গম স্থানে পরিবহনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নৌবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে আহত সামরিক-অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ ডুবুরি সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দক্ষিণ সুদান ছাড়াও লেবাননের ভূমধ্যসাগরে উপমহাদেশের মধ্যে একমাত্র মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ নিয়োজিত রয়েছে। নীলনদের দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটার দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন্স (অপারেশন লাইফ লাইন) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শান্তিরক্ষায় নৌবাহিনীর এ গর্বিত অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
সময়ের আলো/এনএ