প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৯ এএম (ভিজিট : ১২৩)
ফাইল ছবিবাড়ি
আইউব সৈয়দ
চতুর্দিকে আঁচড়কামড় ছায়াপথ
ক্রমশই টের পাই অলীক আখ্যান,
কালের কোরাসে ঢুকে পিতৃপরিচয়
কাঁধে নিশ্বাস ফেলছে কিছু সামগান।
নজরদারি চক্করে ক্লান্ত নয় স্মৃতি
শব্দহীন ঘোরে ফেরে চঞ্চলিতা ঢং,
কথার স্ফুরণ গর্ভে জন্ম দেয় অর্ঘ্য
অভ্যাসবশে খুঁজছি বৈকালিক রং।
বধির বধিরতর অপবাদ নেই
জাদুকরী স্বপ্ন আলো রেখেছি ঐ ঘিরে,
ঠুঁটো অবসর সরে শেফালিবিহীন
আশ্বাসের পরিচর্যা নেমে আসে ভিড়ে।
ভাবের দুর্বার শিস সীমানার বাঁকে,
তমিজমুন্সির বাড়ি ঘাড় ফিরে ডাকে।
তুমি হেমন্তের কবিতার পালক
মিয়া ইব্রাহিম
তুমি কি হেমন্তের শিশিরভেজা ভোরের আলো!
নাকি জলশব্দহীন এক জলপরি!
তোমার আগমনে মরবন্ধ ব্রহ্মপুত্র
একপলক মেলেছিল নিঃসঙ্গ হৃদয়
ভালোবাসার মুগ্ধতার সংকলন ছড়িয়েছিল
দুহাত জুড়ে জমিদার বাড়ির
শান বাঁধানো ঘাট
ময়মনসিংহ শহর যেন নীলাঞ্জনা বিছিয়ে
বেঁধেছিল এক মায়াবী ইন্দ্রজাল
তুমি কি লজ্জাবতী দীঘির জলের ঢেউ
নাকি হেমন্তের বিকেলে ফোঁটা
দাগহীন ছাতিম ফুলের গন্ধ!
তোমার ভালোবাসার ঢেউয়ে ডুবে যায় সাইবেরিয়া
থেকে উড়ে আসা অতিথি পাখি!
বুকের উদরে দুল খায় ওম দেওয়া
বিরহী কবিতার পালক;
তুমি আসলে কেউ না-
দুঃখ বিলাসী কবির চোখে এঁকে দেওয়া
বহুরূপী মেঘনার তীরে এক প্রমত্ত সরসী
হেমন্তের হলুদ সন্ধ্যায় মেঘনার বুক চিরে
ভেসে আসা প্রেম জাগানিয়া মেঘের কোলাজ
হেমন্তের কবিতার পালক
এক বাউল কবির জলশব্দহীন জলপরি!
দিবানিশি
আযাদ কামাল
আমি মুসাফির- এই রহস্য- পৃথিবীর!
স্বপ্নবুকে, উন্মুখ চোখে-
কখনো খুঁজি কবিতা...
কখনো কবিতার যৌবনবতী শরীর;
শব্দের সংলাপে দিবানিশি-
রোদে পোড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে
আমি কখনো শ্রমিক, কখনো প্রেমিক
প্রণয়ের মালা গাঁথি দূর-আগামীর।
আমি মুসাফির-
ভোরের অপেক্ষায় থাকি প্রতিদিন
আমারে অপেক্ষায়
মুখোমুখি দাঁড়ায় শোকের কফিন!
কুশল
আরাফাত রিলকে
গাছকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেই
সে হাওয়া বইয়ে দিল
শরীরে তীব্র ঠান্ডা, হিম রক্তকণিকা
কবিতায় ঠান্ডা লাগে না যদিও
এই শীতে কম্বলও লাগে
একেক দিন নিজেকে নিজে
কুশল জানার পর
শব্দকে দিতে হয় বিদ্রোহ
হাওয়ার পারদ।
মায়াময় খরগোশ
শরৎ সেলিম
জীবন প্রফুল্ল সূর্য দেখে
শীতে হিম ভেজা পাপড়ি নিয়ে
এই অট্টালিকা দুর্গন্ধ চেপে
শুধু জটিল যান্ত্রিক যন্ত্রণা-
কোথাও আকাশ নেই
চিল আর পাখির মৃত্যুযন্ত্রণা
ইট পোড়া, গাছ কর্তনে মাতোয়ারা
নিষ্ফল বিবিধ কিছু!
ষড়যন্ত্রের হাড় রক্ত পুঁজ
দুর্গন্ধ নিয়ে যারা হাসে
তাদের ব্যক্তিগত কোনো ক্ষত নেই, স্বপ্ন নেই
তবু হরিণের মতো চোখ নিয়ে দেখি
সুন্দর কিছু মায়াময় খরগোশ।
শীতে রচিত কবিতা
নাইমুল করিম
আমি জানি, প্রিয় ঋতু হেমন্ত এখন-
তোমার দরজার কড়া নাড়ালেও কোনো লাভ হবে না!
বস্তুত সুবিধাবাদী মানুষের সঙ্গে এখন তোমার চলে করমর্দন!
ঘন কুয়াশামোড়ানো সকালে শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে-
হাঁটার অনুভূতিই আলাদা, এ কথা ভুলেও মনে করতে চাইছ না!
পাখিদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য বলতে কিছু থাকুক
বা না থাকুক, মুহূর্তে শত শত পাখি নিধন হচ্ছে
সে খবরে তোমার কিছু যায়-আসে না!
তুমি সোৎসাহে নির্দোষ অতিথি পাখির মাংস খাচ্ছ;
অধিকন্তু-
অতিরিক্ত লোভ সর্বনাশ ডাকে...।
ঘন কুয়াশায় উত্তর গুম হয়ে যায়
রজব বকশী
বন্দি পাখির মতো যাপন শব্দের ভিড়ে নোঙর ফেলে
অবাক হয়ে পড়ি সভ্যতার স্রোতে
কিছুক্ষণ ছটফট করি
তারপর মিলিয়ে যাই কুয়াশার আঁধারে
আর তুমি বাসাহীন অন্তহীন শাখায় জেগে থাকো
নীরবতার অদৃশ্য প্রস্ফুটনে
এই দ্বান্দ্বিক গ্রহে আলো নামে
ঘোলাটে সময় ভেদ করে আসে আলোকবর্তিকা
তাদের পথ কণ্টকাকীর্ণ
তবু তারা হাঁটে একটি ভোরের খোঁজে
অগভীর জলের বুদ্বুদের মতো আমরা ভাসি প্রজন্মের আড্ডায়
নিষ্ঠুর জেন-জি বৈষম্যহীন যাত্রার নামে
অভিজ্ঞতার গভীরতাকে উপহাস করে
ভোরের সংকেত ফুরিয়ে যায় নীরবে
জলে জোঁক তবু পেরিয়ে যায়
আগুনের ভেতর দিয়ে
ধূপের মতো ছড়ায় সৌরভ
অন্ধকারের নক্ষত্রবীথিতলে
বিষবৃক্ষের বীজ রয়ে যায় অবিনশ্বর
এই সরব যাপন কখনো নিঃশব্দের দিকে হেলে পড়ে
আমরা নীরবতার গভীরে
রোপণ করি জিজ্ঞাসার উজ্জ্বল বীজ
যার উত্তর একদিন অসংখ্য কণ্ঠের ভিড়ে
ঘন কুয়াশায় গুম হয়ে যায়।
সময়ের আলো/এসকে/