প্রকাশ: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৪০ এএম (ভিজিট : ৯৬)
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। সংগৃহীত ছবিএমাজউদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত। এমাজউদ্দীন আহমদ পশ্চিম বাংলার নদীয়া জেলার কালিঙ্গ গ্রামে ১৯৩২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
তার পিতার নাম শামসুদ্দীন আহমদ এবং মাতার নাম আলোকজান। পিতা স্কুলশিকক্ষ ও মাতা গৃহিণী ছিলেন। দেশ বিভাগের পর তাদের পরিবার ভারত থেকে এসে পূর্ববাংলার চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
এমাজউদ্দীন আহমদ ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫০ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৫২ সালে বিএ এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি বিষয়েও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। বিএ পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
কর্মময় জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশা বেছে নেন। তিনি একজন সফল ও জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। কলেজ থেকে তার শিক্ষকতা পেশা শুরু। তিনি প্রথমে প্রভাষক হিসেবে বাগেরহাটের প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) কলেজে যোগ দেন। অতঃপর তিনি নীলফামারী কলেজ, চুয়াডাঙ্গা কলেজ ও রংপুর কলেজের অধ্যক্ষক্ষহিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭০ সালে তিনি সিনিয়র লেকচারার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কর্মজীবনে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হাজী মুহম্মদ মহসীন হলের প্রভোস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন উপাচার্য হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন।
শিক্ষকতা জীবনে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বহুসংখ্যক গ্রন্থ এবং অসংখ্য আর্টিকেল রচনা ও প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তার একাধিক সম্পাদনা গ্রন্থও রয়েছে। তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কথা, মধ্যযুগের রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ও প্রাসঙ্গিক চিন্তাভাবনা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি, বাংলা একাডেমির জীবন-সদস্য, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও ফেলো এবং একুশে পদকসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত হন। ২০২০ সালের ১৭ জুলাই তিনি মারা যান।
সময়ের আলো/এআর