শোরুমে গেলে সত্য বেরিয়ে আসবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, তিনি ওই মোটরসাইকেল বিক্রি করে

2025-12-15T09:05:03+00:00
2025-12-15T09:05:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আইন-আদালত
শোরুমে গেলে সত্য বেরিয়ে আসবে
হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৫ এএম  আপডেট: ১৫.১২.২০২৫ ৯:০৫ এএম
হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক। ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, তিনি ওই মোটরসাইকেল বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য র‌্যাব ও পুলিশকে তাকে শোরুমে (বিক্রয়কেন্দ্র) নিয়ে যেতে অনুরোধ করেছিলেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে পল্টন থানার উপপুলিশ পরিদর্শক শামীম হাসান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে আরেকটি আবেদনে চারটি কারণ উল্লেখ করে তার সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে প্রার্থনা করা হয়। আদালতে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে রিমান্ড শুনানিকালে আদালত অনুমতি দিলে আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি এই মোটরসাইকেলটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছি। পরে অসুস্থ ছিলাম বলে সবাই আমাকে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করে। এ কারণে আমি মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রাখি, এরপর থেকে বাইকটি বাসায় পড়ে ছিল। পরে মোটরসাইকেলটি একটি শোরুমে বিক্রি করি। তাদের আমি পরে নাম চেঞ্জ করে দেব বলে জানাই। দুই মাস পর নাম চেঞ্জ করে দেওয়ার কথা ছিল। শোরুম থেকে আমাকে নাম চেঞ্জের জন্য ডাকা হলেও অসুস্থতার জন্য যেতে পারিনি।’ তিনি আদালতে আরও দাবি করেন, ‘আমাকে গ্রেফতারের সময় পুলিশকে বলেছি, ভালো করে তদন্ত করেন। প্রয়োজনে ওই শোরুমে আমাকে নিয়ে যান, তাহলে সব সত্যি বের হবে। কিন্তু তারা আমাকে সেখানে নিয়ে যায়নি। বরং মামলা দিয়ে থানায় আটকে রাখে। আমি নির্দোষ। এ ঘটনায় কিছুই জানি না।’ পরে বিচারক তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হাদীকে হত্যাচেষ্টায় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মডেল তদন্ত কর্মকর্তা চিহ্নিত করেছেন। যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামি হান্নানের রিমান্ড প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো-কীভাবে এই মোটরসাইকেল আসামিদের কাছে গেল, মালিক হয়েও তাদের সঙ্গে কী সম্পর্ক। এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশ উদ্বিগ্ন। সবাই তাকিয়ে আছেন। সামনে নির্বাচন। হাদি একজন সৎ মানুষ। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামির সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, মূল আসামির মোটরসাইকেলের নম্বর পরীক্ষা করে দেখা গেছে এর মালিক এই হান্নান। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করতে বিভিন্ন সময়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই আসামিকে গ্রেফতারের পর থেকে তিনি এ বিষয় এলোমেলো তথ্য দিয়েছেন। ভারতে পলাতক সাবেক পতিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের নির্দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এজন্য এরা টার্গেট করে আক্রমণ করেছে। এরই অংশ হিসাবে হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। তবে এদিন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানির শেষ মুহূর্তে আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান আসামি। এ সময় আদালত সম্মতি দিলে আব্দুল হান্নান উল্লিখিত বক্তব্য দেন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ইনকিলাব মঞ্চ  ওসমান হাদি  হত্যাচেষ্টা  মোটরসাইকেল 


Loading...
Loading...
আইন-আদালত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: