বিজয় দিবস বাঙালি জাতির জন্য গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় একটি দিন। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর লাল-সবুজ পতাকার চেতনা উদ্বুদ্ধ করে সবাইকে। বিজয় দিবসে সব বয়সির পোশাকে সেই আবহ চোখে পড়ে। বাংলাদেশের উৎসব আর দিবসভিত্তিক পোশাকে বিজয় দিবস উল্লেখযোগ্য। তাই তো দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর ভাবনায় একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে সময়োপযোগী করার তাগিদ থাকে প্রতিটি বিজয় উৎসবেই।
আর এই আয়োজন শুধু একটি দিনের জন্য নয় বরং বিজয়ের মাসজুড়েই রয়েছে এই আয়োজন। লিখেছেন মইনুল হক রোজ
আয়োজন ভাবনায় মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস
স্টাইল, স্মার্টনেস, আউটলুকিংয়ের সামগ্রিক কনসেপ্টে বৈচিত্র্য এলেও বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ফ্যাশনে দেশাত্মবোধের ভাবধারাটা উন্মোচিত হয়। এর সঙ্গে আমাদের অন্যান্য উৎসবকেন্দ্রিক ফ্যাশন প্রবাহের রয়েছে এক বিরাট পার্থক্য। তাই তো আজ পোশাকে ডিজাইন, নকশা ও রঙে উঠে আসে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জন্মলাভের ইতিহাস। তাতে রয়েছে বাঙালির স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভাষার প্রতি সশ্রদ্ধ মমতা।
১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় এখন ফ্যাশন স্টাইলের অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ফ্যাশন-স্টাইলে উৎসবী আমেজ থাকলেও তার থেকে বেশি থাকে দেশাত্মবোধ তথা দেশপ্রেম। আর সে কারণেই বিজয়, স্বাধীনতা কিংবা ভাষা দিবসের ফ্যাশনের প্রথম চিত্রকল্প হিসেবে পোশাকে, শোপিসে কিংবা গহনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রের চিত্রকর্মসহ আরও অনেক কিছু।
১৯৭১-এর আত্মত্যাগের বাঙালি ধরনটা যেমন হৃদয়ছোঁয়া, মর্মস্পর্শী, আবেগঘন, তেমনি আনন্দময়তার রেশটাও কম নয়। আর এ ফ্যাশন বোধের মর্মকথাটা চিত্রে ও কবিতার পঙক্তির মাধ্যমে পোশাকে উৎকীর্ণ করার সফল প্রয়াসটা প্রতি বছরের এ বিশেষ দিনগুলোতে করে থাকেন প্রতিষ্ঠিত হাউসগুলোর পক্ষে নিজ নিজ ডিজাইনাররা। এবারের বিজয় দিবসও এর ব্যতিক্রম নয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ডাকটিকেট, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কবিতা, ছবি, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা ও স্মৃতিসৌধ এবারের আয়োজনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমাদের পতাকার রং লাল ও সবুজ রং পোশাক ডিজাইনে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, মেয়েদের টপস, সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট সবকিছুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মহান বিজয় দিবসের ছোঁয়া। পাওয়া যাবে।
শীতের আগমনে এ আয়োজনে বিজয় দিবসে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়েছে। পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে মোটা সুতি ও খাদি কাপড়। শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ছেলেমেয়েদের কুর্তা, টি-শার্ট ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ লেখা এবং লাল-সবুজ রঙের মাধ্যমে উঠে এসেছে দেশীয় ভাবনা।
পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান এসেছে ডিজাইনের অনুষঙ্গ হিসেবে। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, ব্লক, বাটিক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক, স্ক্রিনপ্রিন্ট ইত্যাদি।
বিজয় দিবসের সাজ-পোশাক
বিজয় দিবস থিমে আপনার পোশাকটির মূল রং হতে পারে সবুজ, বুকে থাকতে পারে লাল নকশা, এমনকি পতাকার লাল বৃত্তটাই। পোশাকের হাতা আর কলারে থাকতে পারে লাল রঙের ব্যবহার।
আবার মূল রং লাল রেখে সবুজের বৈচিত্র্যময় ব্যবহারও হতে পারে। চাইলে এই রঙের ভিন্নতাটুকু অ্যাপ্লিকের কাজ দিয়েও করিয়ে নিতে পারেন পোশাকে। থাকতে পারে দেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পঙক্তি। জাতীয় সংগীতের লাইন, একাত্তরে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে ওঠা জর্জ হ্যারিসনের গানের লাইনও লেখা আছে বাজারের কিছু পোশাকে।
নারীরা চাইলে লাল রঙের কো-অর্ডের সঙ্গে সবুজ শাল পরতে পারেন কিংবা সবুজ কো-অর্ডের সঙ্গে টকটকে লাল ওড়না বা কটি।
বিজয়ের উল্লাসে সবচেয়ে বেশি উল্লসিত হয় শিশুরা। তাদের জন্য বিজয় দিবসটা রাঙিয়ে তোলা যায় লাল বা লাল সবুজের মিশ্রণের ভালোবাসায়। এর সঙ্গে হাতে দিতে পারেন আমাদের পতাকার প্রতিকৃতি। ছোট হাতে বেশ সুন্দর মানিয়ে যাবে।
এ ছাড়া বিজয় দিবসের দিন কিছু শিল্পী গালে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা এঁকে দেন রং দিয়ে। ইচ্ছা করলে একটি পতাকাও আঁকিয়ে নিতে পারেন নিজের ও নিজের সোনামণির গালে।
পোশাক কিংবা অনুষঙ্গে লাল-সবুজের পরশ রাখা যায় নানাভাবেই। তবে লাল-সবুজের চেতনা অন্তরে নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসাতেই হোক সবার পথচলা সেটাই হোক লক্ষ্য।
এফআর