বাংলাদেশকে প্রথম কে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ভারত না ভুটান

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ কোনটি? ভারত, নাকি ভুটান? এ নিয়ে জনমনে খানিকটা বিভ্রান্তি রয়েছে।

2025-12-16T20:37:21+00:00
2025-12-16T22:03:03+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
বাংলাদেশকে প্রথম কে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ভারত না ভুটান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৭ পিএম  আপডেট: ১৬.১২.২০২৫ ১০:০৩ পিএম
ভারত, বাংলাদেশ ও ভুটানের পতাকা। গ্রাফিক : এআই
ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ কোনটি? ভারত, নাকি ভুটান? এ নিয়ে জনমনে খানিকটা বিভ্রান্তি রয়েছে। বিভিন্ন ভাষ্যমতে, একাত্তরের ৩ ডিসেম্বর মতান্তরে ৭ ডিসেম্বর ভুটান বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। আবার অনেকে বলে থাকেন, ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। পরদিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সর্বশেষ অভিমত হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সহযোগিতা করলেও প্রতিবেশী দেশ ভুটান সবার আগে একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভারত সরকারও একই দিন স্বীকৃতি দেয় নতুন এ রাষ্ট্রকে। ভুটান ও ভারতের এ স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। এদিন ভুটান ও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে রণাঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিত্রবাহিনীর আক্রমণে দিশাহারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বিভিন্ন সীমান্ত ঘাঁটি থেকে পালাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের পরাজয় শুধুই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

আনুষ্ঠানিকভাবে সবার আগে ভুটানের স্বীকৃতির কয়েক ঘণ্টা পর স্বীকৃতি দেয় ভারত। সেদিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি বলেন, সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর স্থায়ী মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু ভাবাবেগে পরিচালিত হয়ে নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে বিচার করেই স্বীকৃতি দিচ্ছি।

৬ ডিসেম্বর যেমন ছিল যুদ্ধের ময়দান

একইদিনে মিত্রবাহিনী বঙ্গোপসাগরে ভারতের নৌবাহিনী নৌ অবরোধ শুরু করে। দশম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ও সাব-সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা কর্নেল জাফর ইমামের নেতৃত্বে ফেনী মুক্ত হয়। মেজর জলিলের নেতৃত্বে মুক্ত হয় সাতক্ষীরা। এরপর খুলনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা। ঝিনাইগাতির আহম্মদ নগর হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন কোম্পানি কমান্ডার মো. রহমতুল্লাহ।

এদিন মুক্ত হয় পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও। লাকসাম, আখাউড়া, চৌদ্দগ্রাম, হিলিতে মুক্তিবাহিনী দৃঢ় অবস্থান নেয়। রাতে আখাউড়া ও সিলেটের শমসেরনগর যৌথবাহিনীর অধিকারে আসে। ঝিনাইদহ শহর শত্রুমুক্ত করে যৌথবাহিনী। এ দিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে এক বেতার ভাষণে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিত্ররাষ্ট্র ভারতের জওয়ানদের অভিনন্দন জানান। 


অন্যদিকে, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তান। আর ভারতে মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে ৩ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশের একটি টেলিফোন আসে ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাকবের কাছে। জেনারেল জ্যাকবকে সেনাপ্রধান মানেকশ বার্তা দেন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে এয়ারফিল্ডগুলোতে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। 

সে সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য জেনারেল জ্যাকবকে পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই সময় ভারতের ভেতরে বোমা ফেলার খবরে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা মোটেও উদ্বিগ্ন বা বিচলিত ছিলেন না, বরং এ ধরনের একটি সংবাদের জন্য ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা অপেক্ষায় ছিলেন।

তখন সর্বাত্মক যুদ্ধ চলছিল। এর পর মাত্র ১৩ দিনের যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তার আগে থেকেই ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই পশ্চিম সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করা শুরু করে। কারণ, তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে, যেকোনো সময় দুই দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে যাবার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

সময়ের আলো/এসকে/ 


  বিষয়:   বাংলাদেশ  স্বীকৃতি  ভারত  ভুটান  স্বাধীন 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: