পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রায় সারা পৃথিবীতেই জটিল মেরুকরণ ঘটেছিল। প্রাচ্যে-মধ্যপ্রাচ্যে-পাশ্চাত্যে এমনকী আফ্রিকাতেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বিভাজন দেখা দেয়।
রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনীতি, স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিশ্বজুড়ে পক্ষে-বিপক্ষের এ মেরুকরণ হতে দেখা গেছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার পাশাপাশি ভুলভাবে ধর্মীয় প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোয় বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
তবে, আফ্রো-আরব মুসলিম দেশ মিশর সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিজয়ের দিনে আজ মিশরের অবস্থান তুলে ধরা হলো :
মুসলিম এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মিশর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করেছে। জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনের শরিক বাংলাদেশকেই সমর্থন করেছে তারা। সেই সূত্রেই গণহত্যার বিপরীতেই অবস্থান ছিল মিশরের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দিকের রাষ্ট্রগুলোর একটি মিশর। মিশরের মিডিয়াতেও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সমর্থনে লিখেছেন অনেকেই।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে কায়রোর আধাসরকারি সংবাদ পত্র আল আহরামে সম্পাদক ড. ক্লোভিস মাসুদ ভারত থেকে শরণার্থীদের নিরাপদে এবং নিঃশঙ্কভাবে দেশে ফেরার একটি ব্যবস্থা করতে আনত্ররজাতিক সম্প্রদায়কে তাগিদ দেন।এর পাশাপাশি একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধানের কথাও বলেন।রাজনৈতিক সমাধানের সংজ্ঞাও পরিস্কার করেছিলেন তিনি - শেখ মুজিবের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সত্তরের নির্বাচন অনুসারে ক্ষমতা হস্তান্তর।
ড. মাসুদ অখণ্ড পাকিস্তানেরই পক্ষপাতী তবে তিনি এও উল্লেখ করেছে,পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে অখণ্ড পাকিস্তানের বিনিময়ে এই নৃশংস গণহত্যা মেনে নেয়াও সম্ভব না।বাংলাদেশ ইস্যুতে আরবদের আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতেও অনুরোধ করেছেন মাসুদ।
মিসর ছাড়াও ইরাক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যদেশগুলোর চাপে তেমন সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেনি।
/এমএইচআর