ভারতের বাংলা ও হিন্দি গানের বরেণ্য সংগীতশিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
তার মৃত্যুতে বাংলা সংগীতের জগতে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তবে তার অনবদ্য সঙ্গীতের মাধ্যমে চিরকাল মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। ৯১ বছর বয়সে ২০১৮ সালের আজকের দিনে তিনি কলকাতায় নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪৪ সালে, আর তিনি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন প্রায় সাত দশকের বেশি সময় ধরে। তিনি ১,৫০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন, যার মধ্যে ৮০০টিরও বেশি রবীন্দ্রসংগীত। দ্বিজেনবাবুর গাওয়া গানগুলি ছিল শোকগাথা, যেগুলো বাংলা সংগীতের এক অমূল্য রত্ন হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সলিল চৌধুরী রচিত ও সুরারোপিত "এক দিন ফিরে যাব চলে" গানটি, যেটি দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের গলায় আধ্যাত্মিক এক অনুভূতির জন্ম দেয়, আজ তার মৃত্যুর পর সবার মনে ফিরে আসে। গানে যেমন বলে, "এ ঘর শূন্য করে, বাঁধন ছিন্ন করে, যদি চাহ যেও ভুলে," ঠিক তেমনি তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, সমস্ত বাঁধন ছিঁড়ে, আমাদের অজান্তেই।
দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের গানে সলিল চৌধুরীর সুর ছিল অপরিহার্য। সলিল চৌধুরীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল অবিশ্বাস্য। এই জুটির অনেক গান শ্রোতাদের মনে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি, সলিল চৌধুরী তার উচ্চতায় ছোট হওয়া সত্ত্বেও দ্বিজেনকে প্রায়ই রসিকতা করতেন, মাথাটা একটু উঁচু করে দেখো তো, ইডেন গার্ডেনে কোন খেলা হচ্ছে কি না!
দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বহু পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে তাকে। ২০১০ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'পদ্মভূষণ' লাভ করেন, পরের বছর ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত হন। তার কর্মজীবন ছিল এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতায় ভরপুর। ১৯৯১ সালে পেয়েছিলেন ‘ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার’ এবং ১৯৯২ সালে 'রাজীব গান্ধী পুরস্কার'।
দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের সংগীত জীবন কেবল একটি ক্যারিয়ার ছিল না, বরং তিনি একটি ধারার পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি যে গানগুলো গেয়েছেন, তা শুধু সুর ও কণ্ঠের মাধুরী নয়, তাতে ছিল অনুভূতি, ভালোবাসা, দেশপ্রেম এবং সংগীতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তার শ্রদ্ধা, বিশেষ করে "আমার সোনার বাংলা" বা "চল চাঁদের কথা বলি" গানগুলির মাধ্যমে তিনি আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাই, তার গানগুলি যেন এক অমর ধারা হয়ে বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকে। তার অনবদ্য কণ্ঠস্বর, সংগীতের প্রতি নিবেদন, আর সঙ্গীত জগতের প্রতি তার অবিরাম ভালোবাসা আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।
/ইউএমএইচ