ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও বাবা-মায়ের শিক্ষা ও আদর্শ তাকে ছোট থেকেই মানবতার পথে কাজ করতে উৎসাহিত করে। পড়াশোনা শুরু করেন পাবনা জেলা স্কুল থেকে, এরপর ঢাকা কলেজ। পরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হন। দুই বছর পরে পড়া বন্ধ করে লন্ডনে গিয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং-এ ভর্তি হন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৬২ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লন্ডন, কানাডা ও আমেরিকায় বিভিন্ন চাকরি করেন। ১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নেন। ১৯৭০ সালের চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ‘হেলপ’ নামের সংগঠন গড়ে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কাজ চালান। বিধ্বস্ত মানুষের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করতে সাহায্য করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ ও ‘হেলপ বাংলাদেশ’ নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি, অর্থসংগ্রহ ও রাজনৈতিক সমর্থন সংগ্রহে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা লাভের পর দেশে ফিরে শরণার্থী ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য কাজ শুরু করেন।
১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। ব্র্যাক শুরু হয় শাল্লা, সুনামগঞ্জে। শুরুতে শরণার্থী ও দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করাই মূল লক্ষ্য ছিল। পরবর্তীতে ব্র্যাক দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে গড়ে ওঠে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন ব্র্যাকের মাধ্যমে।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হার্ভার্ড, ইউনিসেফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, সিপিডি, লেগো ফাউন্ডেশন, জাতিসংঘসহ বহু প্রতিষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের স্বীকৃতিতে তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে আছে ওলফ পামে অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ, লেগো অ্যাওয়ার্ড, নাইটহুড খেতাব, এবং স্বাধীনতা পুরস্কার।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ছিলেন উদারচিত্ত, পরিশ্রমী। তার জীবন আমাদেরকে উৎসাহ দেয়। দেখায়, যে ব্যক্তি সৎভাবে মানুষের জন্য কাজ করে, সে সমাজ বদলে দিতে পারে। তার দৃষ্টান্ত আজও বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।
/ইউএমএইচ