ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে গায়েবানা জানাজা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশটির নিউইয়র্কে আয়োজিত জানাজার আগে কর্মসূচিতে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রবাসীরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং হাদির স্বপ্নের ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া জুমার নামাজের পর নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদে ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জানাজা ও প্রতিবাদ সমাবেশে জুলাই পক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেন মসজিদে আবরারের খতিব ও শিক্ষক নাজমুল ইসলাম।
জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাদিকে হত্যা করে আধিপত্যবিরোধী লড়াই থামানো যাবে না। তারা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির রক্ত বৃথা যাবে না এবং তার স্বপ্নের ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়তে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারাও বলেন, বাংলাদেশ কোনো ধরনের আধিপত্য মেনে নেবে না। এছাড়া ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং জুলাই যোদ্ধাসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা সৈয়দ মোস্তাকিম।
এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ডা. মুহাম্মদ আবদুল মোহাইমিন (সাইমন) বলেন, আধিপত্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন হাদি এবং শহিদ হওয়া পর্যন্ত সেই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় হাদির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লাখো মানুষের চোখের জলে চিরবিদায় নেন শহিদ হাদি।
জানাজা শেষে মিছিলে মিছিলে শহিদ হাদির লাশবাহী গাড়ি নিয়ে আসা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের দক্ষিণ পাশে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শহিদ হাদিকে সমাহিত করা হয়।
সময়ের আলো/এসকে/