প্রকাশ: রোববার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৫ এএম আপডেট: ২১.১২.২০২৫ ১০:৪৭ এএম
২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ক্রিসমাস মেলায় মানুষ এসেছে। উত্তর অক্ষাংশের ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকা এই শহরে শীতকালীন অয়নান্তে মাত্র আট ঘণ্টা তিন মিনিট দিনের আলো থাকবে। সংগৃহীত ছবিউত্তর গোলার্ধে আজ বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) এই গোলার্ধের সব দেশেই রাতের সময় হবে সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে থাকবে ঠিক উল্টো চিত্র-সেখানে দিন হবে সবচেয়ে বড়।
উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন পড়ে ২১ জুন, আর দীর্ঘতম রাত হয় ২১ ডিসেম্বর। এই পরিবর্তনের মূল কারণ সূর্যের অবস্থান।
২১ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করে। এ সময় পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্য থেকে কিছুটা দূরে হেলে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো কম পড়ে, দিন দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং রাত দীর্ঘ হয়। এই ঘটনাকেই বলা হয় শীতকালীন অয়নান্ত বা উইন্টার সলসটিস।
পৃথিবীর অক্ষ ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকার কারণে এই সময় উত্তরের দিন ছোট ও রাত দীর্ঘ হয়, আর দক্ষিণ গোলার্ধে দিন দীর্ঘ ও রাত ছোট হয়। উচ্চ অক্ষাংশে, যেমন আলাস্কা বা নরওয়ে, দিনের দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা হতে পারে, আর রাত অনেক দীর্ঘ হয়, যেখানে নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যও বদলে যায়। ডিসেম্বর থেকে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে, আর উত্তর গোলার্ধ সরে যায় তুলনামূলক দূরে। তাই উত্তর গোলার্ধে তখন শীতকাল ও কম সূর্যালোক দেখা যায়, আর দক্ষিণ গোলার্ধে শুরু হয় গরমকাল ও দীর্ঘ হয় দিনের সময়।
আজকের এই দীর্ঘ রাত প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেরই একটি অংশ, যা সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ঘটে।
শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘটনাই নয়, শীতকালীন অয়নান্ত মানবসভ্যতার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রাচীনকাল থেকেই উত্তর গোলার্ধে এটি দীর্ঘ রাতের প্রত্যাবর্তন, আলো ও নতুন আশার প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এই সময় ঘিরে উৎসব, আচার ও ধর্মীয় অনুশীলনের প্রচলন রয়েছে-ইউরোপে ক্রিসমাস বা স্যাটারনালিয়া, স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় সেন্ট লুসিয়া দিবস, জাপানে তোজি উৎসব এবং ব্রিটেনে স্টোনহেঞ্জে সূর্যোদয় দেখার মতো বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবে এই দিনকে উদযাপনের মাধ্যমে সম্মান জানায়।
/ইউএমএইচ