
ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স বর্তমানে টুইটারের পুরনো নাম ও ব্র্যান্ড সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখা, নীল পাখির লোগো সরানো এবং প্রকাশ্যে টুইটার ব্র্যান্ডকে বিদায় জানানোর পর অনেক ব্যবহারকারী ধরে নিয়েছিলেন, জনপ্রিয় এই নামটি ভবিষ্যতে আর ব্যবহার হবে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, এক্স এখনও পুরনো ব্র্যান্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। সম্প্রতি এক্স তাদের পরিষেবার শর্তাবলি হালনাগাদ করেছে, যেখানে আবারও ‘টুইটার’ নামের উল্লেখ রয়েছে।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স কর্পোরেশন গত মঙ্গলবার ব্লুবার্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ব্লুবার্ড নামের প্রতিষ্ঠানটি এক্সের ট্রেডমার্ক ‘টুইটার’ বাতিল করে নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
মামলায় এক্স কর্পোরেশন জানিয়েছে, তাদের টুইটার ব্র্যান্ড এখনও “সচল” এবং “লোগো চেঞ্জ করলেও পরিত্যাগ করেননি।” এক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্লুবার্ডের উদ্যোগ একটি “চুরি” প্রচেষ্টা এবং এটি ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। সংস্থার দাবি, লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী এখনও টুইটার.কম (twitter.com)-এর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে এবং ব্যবহারকারীরা একে টুইটার নামেই চেনে। তাই পুনরায় রিব্র্যান্ড করলেও এটি ট্রেডমার্ক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে, ব্লুবার্ড প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক দপ্তরে আবেদন করেছে যাতে এক্সের কাছ থেকে ‘টুইটার’ ও ‘টুইট’ নামের ট্রেডমার্ক বাতিল করা হয়। তারা এই নাম ব্যবহার করে নতুন পণ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করার পরিকল্পনা করছে। ব্লুবার্ডের দাবি, এক্সের পণ্য, সেবা এবং বিপণন কার্যক্রম থেকে ‘টুইটার’ ও ‘টুইট’ নাম কার্যত পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, ফলে ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
বর্তমানে এক্সের মালিকানা ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর হাতে রয়েছে। এক্সের শর্তাবলি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ব্যবহারকারীরা এক্স বা টুইটার নাম, সংশ্লিষ্ট ট্রেডমার্ক, লোগো, ডোমেইন নাম বা অন্যান্য ব্র্যান্ড উপাদান ব্যবহার করতে পারবে না, এবং এক্সের লিখিত অনুমতি ছাড়া এসব ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া এক্স পাল্টা আবেদনও করেছে, যেখানে টুইটার ট্রেডমার্ককে তাদের ‘একচ্ছত্র সম্পত্তি’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, লোগো থেকে পাখি সরলেও ব্র্যান্ডের মালিকানা ছাড়ার ইচ্ছে এক্সের নেই।
অপারেশন ব্লুবার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক্স আইনগতভাবে টুইটার নাম পরিত্যাগ করেছে এবং প্রকাশ্যে টুইটার ব্র্যান্ডকে মৃত ঘোষণা করেছে। তারা নতুন পরিচয় তৈরি করতে প্রচুর সম্পদ ব্যয় করেছে। ব্লুবার্ডের স্টিফেন কোটস টেকক্রাঞ্চকে বলেছেন, এটি মূলত ট্রেডমার্ক আইনের প্রশ্ন। এক্সের বর্তমান কার্যক্রম নির্দেশ করে যে, তারা ভিন্ন ব্র্যান্ডের দিকে নজর দিয়েছে, ফলে টুইটার নাম ও এর অধিকার এখন নতুন মালিকানার জন্য উন্মুক্ত।
২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পর থেকেই ইলন মাস্ক ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মটির পুরোনো পরিচয় থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘শিগগিরই আমরা টুইটার ব্র্যান্ডকে বিদায় জানাব এবং ধীরে ধীরে সব পাখিকেও।’ সেই ঘোষণার পরই টুইটার আনুষ্ঠানিকভাবে রূপান্তরিত হয় এক্সে। লোগো ও ব্র্যান্ডিং পরিবর্তিত হয়, এবং একসময় বহুল ব্যবহৃত ‘টুইট’ শব্দটি ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক ব্যবহারের বাইরে চলে যায়।
তবে অতীতের সব চিহ্ন পুরোপুরি মুছে যায়নি। এখনও টুইটারের ওয়েব ঠিকানাটি ব্যবহারকারীদের এক্স ডটকমে নিয়ে যায়। এই সংযোগ পুরনো ও নতুন পরিচয়ের মধ্যে দৃশ্যমান যোগসূত্র হিসেবে রয়ে গেছে। এবার সেই সংযোগই আইনি গুরুত্ব পাচ্ছে। এক্সের শর্তে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা কোন রকমে এই নাম, লোগো বা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করতে পারবে না, যা এক ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
ফলে, একদিকে এক্স নিজেকে টুইটার নাম থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ব্লুবার্ড এই পুরোনো ব্র্যান্ডের পুনরুদ্ধারে আইনগত পথ অবলম্বন করছে। এই দ্বন্দ্ব প্রযুক্তি ও ব্যবসার জগতে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত ট্রেডমার্ক, ব্র্যান্ডিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মালিকানা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার দিক থেকে।
/ইউএমএইচ