শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষ পাতা

ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের মতো সহিংস ঘটনার কারণে শিশুদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে। গত ১১ মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক

2025-12-29T06:33:11+00:00
2025-12-29T06:33:11+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
শেষ পাতা
শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে
অধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৩ এএম   (ভিজিট : ১৮৩)
সংগৃহীত ছবি
ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের মতো সহিংস ঘটনার কারণে শিশুদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে। গত ১১ মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১ হাজার ১৭০টি) সংবাদ শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা যৌন ও জীবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে। 

‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০২৫’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। উন্নয়ন সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)’ ও স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) বাংলাদেশের সহায়তায় ‘সচেতন সংস্থা’ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করেন স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল। প্রতিবেদনের সুপারিশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে কঠোর আইন ও রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের জন্য প্রান্তিক অঞ্চলে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা এবং মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সব ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম বলেন, আমরা একটা অস্থির সময় পার করছি। শিশুরাও অস্থিরতার মধ্যে আছি। পারিবারিক শিক্ষা শিশুদের প্রধান হলেও পরিবারের সদস্যদের দ্বারা শিশুরা নির্যাতিত হয়। নানাভাবে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করলেও সেই কাজেরে সমন্বয় নেই। এ ক্ষেত্রে সবাই চাইলে শিশু একাডেমি সমন্বয়ের দায়িত্ব নিতে পারে। শিশু অধিকার নিশ্চিত করার কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংবাদপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার শিকার হয়েছে। যদিও শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষায় কিছু সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের ইতিবাচক দিকও প্রকাশিত হয়েছে। তবে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে যৌন শোষণ ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, ক্রমাগত উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য আইনের দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগ, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে শিশুবান্ধব করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মোছা. জুলিয়া জেসমিন, সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার, ওয়াটারকিপার্স-বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার হালিম বেগম, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক জিলহাস উদ্দিন নিপুন, ‘শিশুরাই সব’ সংগঠনের উপদেষ্টা পুলক রাহা, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, শিশু অধিকার ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, এমজেএফ-এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার পাবলো নেরুদা প্রমুখ।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   শিশু  নিরাপত্তা  ঝুঁকি 


Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: