পেরুর উত্তরাঞ্চলের লা লিবার্তাদ প্রদেশের পাতাজ শহরে সোনার খনিতে হামলায় তিনজন শ্রমিক হয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র আলডো ম্যারিনো। পাতাজে খনি শ্রমিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার এটি সর্বশেষ ঘটনা এটি।
স্থানীয়দের বরাতে মেয়র আলডো মারিনো গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের মে মাসে একই জেলায় ১৩ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছিল। তখন অপরাধী চক্রগুলো এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।
জানা যায়, পাতাজ পেরুর প্রধান স্বর্ণ উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। মূলত ক্ষুদ্র আকারের অনানুষ্ঠানিক খনির কারণে এই অঞ্চলটি স্বর্ণ উৎপাদনে এগিয়ে আছে। এসব খনি সরকার প্রদত্ত সাময়িক অনুমতিপত্রের আওতায় পরিচালিত হয়। গত ডিসেম্বর পেরু সরকার অনুমতিপত্রের মেয়াদ আরো এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে।
খনি শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব অনুমতিপত্রের অধিকাংশ অবৈধ খননকারীরা ব্যবহার করছে।
তারা বৈধ খনি শ্রমিকদের কাছ থেকে স্বর্ণ লুট করে। অপরাধী চক্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
গত জুলাই মাসে সরকার এই কর্মসূচি থেকে ৫০ হাজার খনি শ্রমিককে কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। বর্তমানে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আওতায় ৩০ হাজারের মতো শ্রমিককে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে পেরু থেকে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্বর্ণ রফতানি করা হয়েছে। যা আগের এর আগের বছর ছিল ১১ বিলিয়ন। স্থানীয় শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির আর্থিক তদারকি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই রপ্তানীকৃত স্বর্ণের প্রায় ৪০ শতাংশই অবৈধ উৎস থেকে এসেছে।
সময়ের আলো/এএ/জেডআই