২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পরে ভেনেজুয়েলায় সব চেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। গতকাল শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় এয়ার স্ট্রাইক চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীনে এ সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। নিহতের সংখ্যা কিংবা অভিযানের বিস্তারিত বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য রয়েছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার মাটিতে নামার আগে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ব্যাপক আকারে অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়।’
গতকাল শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে ‘শক্তিশালী চমকপ্রদ প্রদর্শন‘ বলে বর্ণনা করেন।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনকা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’
এদিকে, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কৌঁসুলিরা গতকাল শনিবার একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করেন। এতে মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগসহ একাধিক অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনয়া লাতিন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ভেনেজুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’বলে জানিয়েছেন, মহাসচিবের এক মুখপাত্র। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপে ‘অঞ্চলটির জন্য উদ্বেগজনক প্রভাব’ রয়েছে। রোববার বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এসব ঘটনা একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।’
তার মুখপাত্র বলেন, ‘এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’
সময়ের আলো/এনএ