বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ–ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। কেউ কেউ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার অনেকে আইপিএল বয়কটের কথাও বলছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর আগে আইপিএলের আটটি আসরে পাঁচটি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে এবার প্রথমবারের মতো ৯.২০ কোটি রুপিতে তাকে দলে ভেড়ালেও, ভারতীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। বিসিসিআইয়ের নির্দেশনার সঙ্গেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে বিসিবিকে আইসিসির কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন আসিফ নজরুল। তার মতে, যেখানে একজন চুক্তিবদ্ধ বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিরাপদে খেলতে পারেন না, সেখানে পুরো দলকে ভারতে পাঠানো কতটা নিরাপদ-সেই প্রশ্ন তোলাই যুক্তিযুক্ত। তিনি বিশ্বকাপের বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানাতে বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার কিংবা দেশের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
একই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তবে জনগণের উদ্বেগের কথা তিনি সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে অবগত করেছেন।
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে ফারুকী বলেন, এই ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ ঘৃণার রাজনীতির প্রতিফলন দেখেছেন এবং গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। সম্প্রতি ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন-এই ঘটনাও কি একই মানসিকতা থেকে ঘটেছে? ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বা ফুটবল দলের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, সেটিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
/ইউএমএইচ