পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে পৃথক দুটি বন্দুক হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা এই হামলাগুলো চালিয়েছে।
প্রথম হামলাটি লাক্কি মারওয়াত জেলার সারাই নৌরাং শহরে ঘটে। সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ট্রাফিক পুলিশ ইনচার্জ জলাল খান, কনস্টেবল আজিজুল্লাহ এবং কনস্টেবল আবদুল্লাহ। হামলার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ এই ঘটনার পর তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এবং হামলার পেছনের কারণ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, বান্নু জেলার মানদান এলাকায় আরও একটি হামলায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, কনস্টেবল রশিদ খান তার বাসা থেকে মানদান থানায় দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন এবং তখন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
আরও পড়ুন
পাকিস্তানে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর কেপির কারাক জেলায় পুলিশের একটি ভ্যানে হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়া ৩ ডিসেম্বর ডেরা ইসমাইল খান জেলার পানিয়ালা এলাকায় পুলিশের গাড়িতে হামলায় তিন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সন্ত্রাসী হামলার সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলায়, যেখানে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার ৩৩১ জন নিহত হন।
এ ধরনের হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এএডি/