জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ছাত্রদলকে জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাবি ছাত্রদল শাখা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ২১ বোতল মদসহ মো. ফজলে আজওয়াদ নামে একজন আটক করা হয়। আটকের পর থেকেই কিছু সংবাদমাধ্যমে আজওয়াদকে ছাত্রদল কর্মী বলে অভিহিত করা হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার। আটক শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কর্মী বা পদধারী নন। তার ছাত্রদলের সাথে ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিগত জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল হল পর্যায়ে সবার জন্য উন্মুক্ত প্যানেল গঠন করেছিল। অরাজনৈতিক কোনো শিক্ষার্থীও নির্বাচন করতে চাইলে তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল প্যানেলে বিবেচনা করেছে। ছাত্রদলের এ ধরনের উদার মনোভাবের লক্ষ্য ছিল ছাত্ররাজনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রসারিত করা।
এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদল জাবি শাখা আশা করে, সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার বন্ধ করবে। ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় অকারণে ছাত্রদলের ওপর চাপিয়ে দেবে না। ছাত্রদল মাদক উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্তের রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক হলের ৭২৩ নং কক্ষ থেকে ২১ বোতল মাদকসহ অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীকে আটক করে হল প্রশাসন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম মো. ফজলে আজওয়াদ। তার বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে।
মো. ফজলে আজওয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং মীর মশারফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছে। সে অবৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম হলে থাকতেন।
অভিযুক্তের কিছু ঘনিষ্ঠসূত্র নিশ্চিত করেছে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জামসিং এলাকায় বাসা নিয়ে থাকেন। এই বাসাকে সে মাদক কারবারের হাব হিসেবে ব্যবহার করত বলে জানায়।
এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই রুমে যাদের অ্যালোটমেন্ট তারা কেউ থাকে না। আমরা জানতে পেরেছি, অনেকেই এই রুমে এসে মাদক সেবন করে। ফজলে আজওয়াদ সে মীর মশারফ হোসেন (এমএইচ) হলের অ্যালোটেড শিক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, সে রুমে আসার পর অভিযান চালিয়ে ২১ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্র শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/এএ/জেডআই