সকাল ১১ টা ক্যাম্পাসের অবকাশ ভবনের সামনে আড্ডা দিচ্ছেন তানজিম হোসেন, হেরা, দুর্লভ, সাদমান, সাকিন ও নাসিমা। তারা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিছুক্ষণ আগে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট দিয়েছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যেমন প্রথম ভোট তেমনি তাদের জীবনেরও প্রথম ভোট। আর জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা। তাদের চোখে-মুখে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে বাইরে ও ভেতরে ছিল শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটার উপস্থিতি।
অনেকেই দল বেধে আড্ডা দিচ্ছেন, হাসি গল্পে মেতে উঠেছেন। আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজেরাই নানাভাবে সেলফি তুলেছেন মোবাইল ক্যামেরায়। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় পুরো ক্যাম্পাস মুখর হয়ে উঠেছে। লিফলেটে ছেয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ও চত্বর। বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ছোটাছুটি দেখা গেছে।
কেউ কেউ বলছেন, এ এক অন্যরকম আনন্দ, অন্যরকম অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আবার কেউ কেউ বলছেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে নির্বাচনে ভোট দিতে এসেছেন তারা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিম হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আগামী মাসে যে সংসদ নির্বাচন হবে, সেখানে আমি ভোট দিতে পারবো না, কারণ আমি ন্যাশনাল আইডি কার্ড হয়নি। আমি ভোটার হয়নি। আমি জীবনে কোনদিন ভোট দেয়নি। তাই জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলাম।
আরও পড়ুন
বাংলা বিভাগের প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থী সাদমান বলেন, জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। সেই-ই আনন্দ। এ এক অন্যরকম আনন্দ, অন্যরকম অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
তামান্না ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী সময়ের আলোকে বলেন, নানা শঙ্কা থাকলেও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য আগে থেকেই উদ্গ্রীব হয়ে ছিলাম। তাই সকাল সকাল এসে ভোট দিয়েছি। কেননা, এটাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। জকসুতেই আমার প্রথম ভোট। তাই কোনোভাবেই নির্বাচন মিস করতে চাইনি। মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জয় খান সময়ের আলোকে বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে খুবই ভালো লাগছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ উল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে যারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন- এ রকম প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী হল আর কেন্দ্রীয় সংসদে ভোট দিয়েছি। জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে খুবই আনন্দ লাগছে।
এ নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮ বুথে মোট ১৬ হাজার ৫শো শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া একটি হল সংসদে ১২৪২ জন শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিকাল ৩টার মধ্যে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন , সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সদস্য পদে ৭ জনের বিপরীতে ৫৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
ছাত্রী হলে ১৩ পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৩ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজ সেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ৩ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদকে ৪ জন এবং ৪টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে হল সংসদে।
জকসু নির্বাচনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। ভোট কেন্দ্রসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দায়িত্ব পালন করছেন তারা। বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে রাত থেকেই প্রবেশ গেটে বিশেষ পাহারা বসানো হয়েছে। আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা।
এএডি/