শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরা, বিপর্যস্ত জনজীবন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

শীতে কাঁপছে দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।বুধবার (৭ জানুয়ারি)

2026-01-07T21:13:21+00:00
2026-01-07T21:13:21+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরা, বিপর্যস্ত জনজীবন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম 
আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা। ছবি : সময়ের আলো
শীতে কাঁপছে দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন ছয়টায় ৮. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে ঘনকুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। হাড় কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।

সরেজমিনে দেখা দেখা, জেলাজুড়ে বইছে কনকনে ঠান্ডা বাতাস। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। বুধবার সকালে থেকে পাওয়া যায়নি সূর্যের দেখা। তবে দুপুরের দিকে সূর্য একটু উঁকি দিলেও তাতে উত্তাপ না থাকায় হিমশীতল ভাব কাটেনি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। শহর এবং গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ছিন্নমূল মানুষকে খড়কুটো, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। 

এমন পরিস্থিতিতে শহরের ফুটপাথের দোকান গুলোতে গরম কাপড় কেনার জন্য বিভিন্ন পেশার মানুষকে ভিড় করতে দেখা গেছে।

তবে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের। সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুল মোড়ে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, কনকনে শীত ও বাতাসে হাত-পা জমে যাচ্ছে। তবুও কাজে বের হতে হয়েছে। কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না।

ভ্যানচালক জসিম উদ্দীন বলেন, প্রচণ্ড শীতে যাত্রীর সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। তীব্র শীতে পেটের তাগিদে আমাদের বের হতে হচ্ছে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বয়স্করা বেশি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া শত শত রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান বলেন, এই আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। বুধবার সকাল ৬টায় সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। যা গত ৩১ ডিসেম্বর নেমেছিল ৯.৪ ডিগ্রিতে। 

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি মাসজুড়েই এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার। 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিন উপস্থিত হয়ে শীতার্ত শত শত মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এফআর
  বিষয়:   শীতে কাঁপছে  সাতক্ষীরা  বিপর্যস্ত জনজীবন 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: