সরকারি চাল সংগ্রহে সিন্ডিকেটের চালবাজি

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকারি মূল্যে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।উপজেলা খাদ্য বিভাগ

2026-01-07T23:02:17+00:00
2026-01-07T23:03:17+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সরকারি চাল সংগ্রহে সিন্ডিকেটের চালবাজি
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০২ পিএম  আপডেট: ০৭.০১.২০২৬ ১১:০৩ পিএম
সচল দেখানো একটি রাইস মিলের চিত্র। ছবি : সময়ের আলো
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকারি মূল্যে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা খাদ্য বিভাগ ও কয়েকজন চাতাল-মিল মালিক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেট তৈরি করে এসব অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টদের। 

Advertisement
জানা গেছে, ২০২৫ -২৬ অর্থবছরে আমন মৌসুমে উলিপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে মিলারদের মাধ্যমে ৫৮৫ দশমিক ৯৯০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গেল বছরের ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা খাদ্য বিভাগ ৪৮টি হাসকিং চাতাল ও রাইস মিলকে সচল দেখিয়ে একটি বরাদ্দ তালিকা প্রস্তুত করে। 

তবে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কোনো রকম সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, সম্পূর্ণ অচল এমনকি অস্তিত্বহীন হাসকিং চাতাল ও চাল মিলের নামে বিপুল পরিমাণ সিদ্ধ চাল সরবরাহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়াও, তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি মিলকে পরীক্ষিত ক্ষমতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৪২০ মেট্রিক টন এবং সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৭৭০ মেট্রিক টন করে সিদ্ধ চাল সরবরাহের চুক্তিবদ্ধ দেখানো হয়। কিন্তু সরেজমিনে ধরা পড়ে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তালিকাভুক্ত ৪৮টি মিলের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ মিলই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। 

মিলের ঠিকানা ধরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অনেক মিলের কোনো অস্তিত্ব নেই। কোথাও ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়ে আছে পরিত্যক্ত ভবন। অনেক জায়গায় হাসকিং বয়লার তো দূরের কথা, মিলের স্থানে খড়ের ঢিবি কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এসব চাতালে না আছে উৎপাদন কিংবা উৎপাদনমুখী কোনো কার্যক্রম। 


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে বন্ধ ও অস্তিত্বহীন চাতাল মিলগুলোর নাম ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছে। এমনকি বিভিন্ন প্রকল্পের চাল কম দামে সংগ্রহ করেও তা সরকারের নির্ধারিত দামে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে সরকার যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি প্রকৃত ও সৎ মিল মালিকরা ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে সংগৃহীত চালের একটি বড় অংশের মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মিল মালিক জানান, খাদ্য বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশে রাজনৈতিক নেতারা এসব বরাদ্দ দেখিয়ে ফরিয়া নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের চাল সংগ্রহ করে মজুদ রাখেন। আর বন্ধ থাকা মিলগুলোর নামে বেশি করে বরাদ্দ দেখিয়ে মজুদ করা চালগুলোই সরবরাহ করেন গুদামে। এতে আমাদের মিল-চাতাল চালিয়ে খরচের জোগান দিতে ব্যর্থ হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। 

একজন প্রাক্তন মিল মালিকের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, খাদ্য গুদামে টাকার বিনিময়ে সব ধরনের চাল দেওয়া যায়। শুধু চাল সাদৃশ্য হলেই হলো, ভালো মন্দের কোনো বাছ বিচার করা হয় না। সেজন্য গুদাম হতে প্রায়ই পচা চাল বিতরণের অভিযোগ ওঠে। 

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে প্রকৃত সচল মিলগুলোকে যাচাই করে নতুন করে বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি চাল সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিসবাহুল হোসাইন জানান, সচল চাতাল মিল যাচাই-বাছাই করেই তালিকাভুক্ত মিল মালিকদের অনুকূলে মোট ৫৮৬ দশমিক ৯৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক জানান, আপনি বললেই তো হবে না, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। 

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়েছে।

এফআর
  বিষয়:   কুড়িগ্রাম  উলিপুর  সরকারি  চাল সংগ্রহে সিন্ডিকেট  চালবাজি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: