ছবি : সময়ের আলোশরতের আগমনে নতুন রূপে সেজেছে চায়ের রাজ্য কমলগঞ্জ। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, সবুজ চা-বাগান ও বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল, সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লেখা শরৎ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘আজি কি তোমার মধুর মূরতি, হেরিনু শারদ প্রভাতে’। এমন পংক্তিমালা কার মন না ছুঁয়ে যায়! ধবল সাদা কাশবনের খোঁজে দিশেহারা হয়ে যায় মন।
প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। তাই তো কাশফুল ফুটে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে চারপাশে। নদীর ধার, পুকুরপাড় কিংবা বিস্তীর্ণ বালুচরে অগোচরে ফোটে কাশফুল। লাগে না কোনো যত্ন-আত্তি। তারপরও দূর থেকে কাশবনে তাকালে মনে হয়, শরতের সাদা মেঘ যেন নেমে এসেছে ধরণির বুকে। একটু বাতাস পেলেই দলে দলে কাশফুল যখন এদিক-ওদিক মাথা নাড়ায়, তখন মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। ইট-পাথরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে ক্ষণিক প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন কাশফুলের সংস্পর্শে।
গাঢ় সবুজের মাঝে শুভ্র কাশফুলের চাদরে ঢাকা রূপসি কমলগঞ্জ। চা গবেষণা কেন্দ্রের মোড় পেরিয়ে খানিকটা এগোলেই পথের ধারেই মিলবে কাশবনের সমারোহ। আঁকাবাঁকা পথের দু’ধারে সারি সারি চা বাগান আর সন্ধ্যায় ঝলমলে আলোয় পর্যটকরা মন ভরে উপভোগ করছেন বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য।
শুভ্র কাশবনে ছেয়ে আছে পাহাড়ি ছড়া ও ঘন চা বাগান এলাকা। শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের পাশে বেলতলী-সংলগ্ন ভুড়ভড়িয়া ছড়ার পাশেই এই কাশফুলের বালুচরের অবস্থান। ভানুগাছে যাওয়ার রাস্তা ধরে সামনে এগোলেই চা বাগানের ছড়ার পাশে দেখা মিলবে কাশফুলের বালুচর।
প্রতিবছর আগস্টের শেষের দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম দিক পর্যন্ত ফুল ফোটে। তাই বছরের এই দুই মাস পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড় লেগেই থাকে।
স্থানীয়রা জানান, আগস্টের শেষে ফুটতে শুরু করে সেপ্টেম্বরে পুরো দুই কিলোমিটার এলাকা সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের প্রথমে ফুলগুলো ঝরে যায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাশবনে মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সি মানুষ এখানে এসেছেন। কেউ কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন, কেউ গাছের ভেতরে ঢুকে পড়ছেন, আবার কেউ মুক্ত বাতাসে পুরো বালুচর ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কাশফুল দেখতে আসা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ঋতু পরিক্রমায় প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। রাশি রাশি কাশফুল ছড়াচ্ছে শ্বেত-শুভ্র নৈসর্গিকতা। যা মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কাশফুল ও চায়ের রাজ্য উপভোগ করতে আসা অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট বায়তুল হক চৌধুরী বলেন, কলেজ বন্ধ থাকায় এই সময়টা বের করতে পেরেছি। আমি একা আসিনি, পরিবারের সদস্যরাও এসেছেন। জায়গাটি অনেক সুন্দর। কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুললে ছবিগুলোও অনেক সুন্দর হয়। তাই এখানে আসা।
পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, চায়ের রাজধানী হিসেবে এই স্থানটি পরিচিত, দেশে-বিদেশে। চার-পাঁচ বছর ধরে এই কাশফুলের বালুচরটি সবার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এখানে আসা পর্যটকদের কাছে কাশবন বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
শীত এলে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়বে বাগানগুলো। তার আগে চা বাগানসহ পুরো কমলগঞ্জ জুড়েই দিনে কিংবা রাতে পর্যটকরা মন ভরে উপভোগ করবেন এই সৌন্দর্য।
সময়ের আলো/এসএকে